অতীতেও পুলিশকে 'বোমা মারার' নিদান দিয়ে বিতর্কের নজির রয়েছে বীরভূম তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতির।

অনুব্রত মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 31 May 2025 08:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশ কর্তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি (abusing the police) করার ঘটনায় শোরগোল তৈরি হওয়ার পর দলের চাপে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। ইতিমধ্যে কেষ্ট মণ্ডলের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ। অনুব্রতকে থানায় তলবও করা হয়েছে। শনিবার হাজিরা (bolpur police station) দিতে হবে তাঁকে।
অনুব্রতর বক্তব্যকে দল যে সমর্থন করছে না, তৃণমূলের তরফে শুক্রবার দুপুরে বিবৃতি দিয়ে তা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। কেষ্টর এমন আচরণে দল যে যারপরনাই ক্ষুব্ধ, সেই বার্তা দিতে অনুব্রতর জন্য বরাদ্দ গাড়ি এবং নিরাপত্তায় কোপ বসানো হয়েছে। তবে পুলিশকে গালাগালি দেওয়ার ঘটনায় স্রেফ ক্ষমা চেয়েই অনুব্রত কি পার পেয়ে যাবেন নাকি তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, এই প্রথম নয়, অতীতেও পুলিশকে 'বোমা মারার' নিদান দিয়ে বিতর্কের নজির রয়েছে বীরভূম তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতির।
পুলিশকে গালাগালি করলে কী কী শাস্তি হতে পারে?
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১ ধারায় ফৌজদারি ভীতিপ্রদর্শন: এই ধারায় প্রাণনাশ, পরিবারের ক্ষতি এমন হুমকি প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, অথবা উভয়ই হতে পারে। তবে হুমকি গুরুতর না হলে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, অথবা উভয়ই হতে পারে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৩৪ ধারায় সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে ভয় দেখানো: সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার জন্য জোর বা ভয় দেখানোর ঘটনায় সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, অথবা উভয়ই হতে পারে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮২ ধারায় অপমানজনক শব্দের মাধ্যমে শান্তিভঙ্গের প্ররোচনা: হুমকিমূলক কথাবার্তা বলা, অপমানজনক বা উত্তেজনাকর শব্দ প্রয়োগের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয়ই হতে পারে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৩৩ ধারায় সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা: হুমকির কারণে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি হলে সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড বা ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয়ই হতে পারে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৯ ধারায় জনসমক্ষে অশ্লীল বা অপমানজনক ভাষা ব্যবহার: এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড, বা ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয়ই হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত, বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে সোশ্যাল মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ (Audio Clip) ভাইরাল হয়। তাতে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা সম্পর্কে নোংরা কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল।
এরপরই নবান্নের নির্দেশে শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলাও দায়ের হয়েছে। যদিও অডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় দলের কড়া নির্দেশের পর এ ব্যাপারে দলকে চিঠি লিখে ক্ষমা চাওয়ার কথা জানানোর পাশাপাশি সাংবাদিক বৈঠক থেকেও এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন কেষ্ট। তিনি ক্ষমা চেয়ে নেওয়ায় পুলিশ আদৌ কড়া পদক্ষেপ করবে কিনা তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।