আজ দক্ষিণবঙ্গে চরম গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা। উত্তরবঙ্গে বর্ষা সক্রিয় হচ্ছে শনিবার থেকে। জেনে নিন কলকাতা সহ রাজ্যের আবহাওয়ার বিস্তারিত পূর্বাভাস।

বাংলায় বর্ষা কবে?
শেষ আপডেট: 11 June 2025 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণবঙ্গজুড়ে তীব্র গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আজ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে কলকাতা, দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম ও হাওড়া জেলাগুলিতে সকাল থেকেই অনুভূত হচ্ছে চরম গরম ও ঘামে ভেজা পরিস্থিতি। উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম হলেও আর্দ্রতা সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৬০ থেকে ৯২ শতাংশ, যার ফলে দিনের বেলা কিংবা রাত, সবসময়ই দমবন্ধ করা গরম।
এই অবস্থার মধ্যে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বুধবার বিকেল বা রাতে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং হাওড়া জেলাগুলিতে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টার দমকা হাওয়া ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কলকাতাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
উত্তরবঙ্গে মৌসুমী বায়ু এখনও থমকে রয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, শনিবারের দিক থেকে আবার সক্রিয় হতে পারে বর্ষা। ১৪ জুনের আশপাশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু মধ্য ও পূর্ব ভারতে অগ্রসর হতে পারে বলে পূর্বাভাস মিলেছে। তবে দক্ষিণবঙ্গে তার প্রবেশে আরও দু-তিন দিন দেরিতে হবে বলেই ধারণা।
মৌসুমী অক্ষরেখা বর্তমানে মুম্বই থেকে অহল্যানগর, আদিলাবাদ, ভবানিপাটনা, পুরি ও স্যান্ডহেড হয়ে বালুরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় দুই সপ্তাহ থমকে থাকার পর এবার ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে শুরু করবে বর্ষা।
এদিকে উত্তরবঙ্গে আজ দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়বে। শনি ও রবিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। আগামী শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে ৭০ থেকে ১১০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
দেশজুড়ে আবহাওয়া বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তীসগড় ও ওড়িশার সংলগ্ন অঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওপরেও একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে, যার প্রভাব পড়বে উত্তর ওড়িশা উপকূল এবং দক্ষিণ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। পাকিস্তান ও লাদাখ সংলগ্ন এলাকায়ও একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রবেশ করছে জম্মু-কাশ্মীর ও পার্বত্য উত্তর-পশ্চিম ভারতে।
তামিলনাড়ু থেকে মহারাষ্ট্র পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা কর্নাটক হয়ে বিস্তৃত হয়েছে, পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত আরেকটি অক্ষরেখা মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও ওড়িশার উপর দিয়ে বিস্তৃত। এসব সিস্টেমই আগামী দিনগুলিতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের গতিপথ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলির মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্য মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও কেরালায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে—বিশেষ করে আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরাতে প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশা, তামিলনাড়ু ও পন্ডিচেরিতেও বৃষ্টির মাত্রা বাড়বে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন।
তবে দেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অংশে পরিস্থিতি পুরোপুরি বিপরীত। রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ ও মধ্যপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চলছে চরম তাপপ্রবাহ। এইসব অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে তাপমাত্রার অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে।
আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.২ ডিগ্রি। যদিও তাপমাত্রা গ্রীষ্মের স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই, কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অত্যধিক হওয়ায় তা তীব্র অস্বস্তির সৃষ্টি করছে। আগামী কয়েকদিনেও পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে শহরবাসীকে।