গড়িয়া স্টেশন চত্বরে চায়ের দোকানে চায়ে মাদক মিশিয়ে এক নার্সকে বেহুঁশ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় দোকানদার। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলে।

গড়িয়ায় নার্সকে ধর্ষণের চেষ্টা।
শেষ আপডেট: 11 June 2025 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের চায়ের আড্ডা ছিল সেটি। গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন কয়লাপট্টির একটি ছোট চায়ের দোকান। কিন্তু সোমবার রাতের ঘটনার পর সেই দোকানই এখন এক অপরাধের সাক্ষী! অভিযোগ, সেখানে চা খেতে এসে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন এক নার্স। দোকানি তাকে চায়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে বেহুঁশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পরেই তৎপর হয় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে দোকানের মালিক সোমনাথ পাণ্ডাকে। ধৃতকে মঙ্গলবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি পেশায় নার্স। সোমবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ তিনি ওই দোকানে চা খেতে যান। ভিন্ রাজ্যে কর্মরত স্বামীর কাছে টাকা পাঠানোর বিষয়েও দোকানদার সোমনাথের সাহায্য দরকার ছিল তাঁর। দোকানে বসে কথাবার্তার মাঝেই তাঁকে চা দেওয়া হয়। নার্সের অভিযোগ, সেই চায়ের মধ্যেই মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল মাদকজাতীয় কিছু।
নার্সের দাবি, চা পান করার কিছুক্ষণ পরেই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন তিনি। এরপরেই বেহুঁশ হয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ অচেতন অবস্থায় দোকানেই পড়ে থাকেন ওই নার্স। প্রায় সাড়ে বারোটা নাগাদ যখন তার জ্ঞান ফেরে, তখন দেখেন শরীর থেকে উধাও পোশাক। কোনওরকমে শরীর ঢেকে, নিজেকে সামলে রাত আড়াইটা নাগাদ পালিয়ে যান সেখান থেকে।
বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের গোটা বিষয়টি জানান তিনি। এরপর মঙ্গলবার সকালে নরেন্দ্রপুর থানায় দায়ের করা হয় লিখিত অভিযোগ। অভিযোগ পাওয়ার পরই দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত সোমনাথ পাণ্ডাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে অভিযুক্ত এবং নির্যাতিতার মোবাইল ফোন-সহ দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একাধিক সামগ্রী। কীভাবে এবং কোন উপায়ে নার্সকে মাদক খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে চায়ের কাপ ও ব্যবহৃত জিনিসপত্রও।
এদিকে নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা এবং আদালতে গোপন জবানবন্দির আবেদনও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দোকানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও ফরেনসিক পরীক্ষাকেও।
স্থানীয়দের দাবি, দোকানটি দীর্ঘদিন ধরেই চললেও কখনও এমন ঘটনায় চমকে গিয়েছেন তারা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে কোনও গাফিলতি রাখা হবে না। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।