পুজোর আলো নিভে যেতেই উত্তরবঙ্গ ডুবে গেছে এক অনন্ত অন্ধকারে। আকাশ যেন ক্রুদ্ধ দেবতা— টানা বৃষ্টি, গর্জন, বিদ্যুৎ, আর ফুঁসতে থাকা নদীর দাপটে এলাকা জুড়ে মৃত্যু-ভয়। জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং— একের পর এক জেলা যেন প্রকৃতির শাস্তিতে বিধ্বস্ত। রাস্তা নদী হয়ে গেছে, ঘরবাড়ি গিলে নিচ্ছে জল।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের কণ্ঠেও আতঙ্কের সুর, নিম্নচাপের শক্তি ম্লান হলেও তার ছোবল এখনও অটুট। উত্তর বিহারের ঘূর্ণাবর্ত থেকে ছড়িয়ে পড়ছে একটানা প্রবল বৃষ্টি। শেষ ১২ ঘণ্টায় ২৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি— এমন বর্ষণ উত্তরবঙ্গ শেষ দেখেছিল ১৯৯৮ সালে। আবারও সেই ভয়াল স্মৃতি ফিরে এসেছে।
উত্তরবঙ্গের বাতাসে কুয়াশার সঙ্গে এখন মিশে আছে আতঙ্ক। কোথাও নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকছে গ্রামে, কোথাও পাহাড়ের বুক থেকে ধস নেমে গিলে নিচ্ছে ঘর। সিকিম থেকে অসম— চারপাশে শুধু বৃষ্টি, বৃষ্টি, আর বৃষ্টি।
আলিপুরদুয়ারে দুর্যোগের চেহারা সবচেয়ে ভয়াবহ। প্রবল বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে ঘর উড়ে যাচ্ছে, বিদ্যুৎ নেই, রাস্তা বিচ্ছিন্ন। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে আজও অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। নদীর জলস্তর ক্রমশ ফুলে উঠছে— প্রতিটি মুহূর্তে গ্রাস করছে নতুন অঞ্চল।
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, এখনই মুক্তি নেই। অন্তত আরও একদিন উত্তরবঙ্গে রুদ্ররূপ বজায় রাখবে প্রকৃতি। মঙ্গলবার কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, তার আগে দুর্যোগ চলবেই।




