ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। এক্স হ্যান্ডেলে একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে দাবি করা হয়, সেটি নাকি মহুয়া মৈত্র এবং ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের ব্যক্তিগত কথোপকথন। ‘লাভ চ্যাট’ আখ্যা দিয়ে সেই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

মহুয়া মৈত্র
শেষ আপডেট: 11 February 2026 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর (TMC MP Mahua Moitra) নামে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ‘ফাঁস হওয়া’ ব্যক্তিগত চ্যাট সংক্রান্ত তদন্তে নয়ডা গিয়ে বিপাকে পড়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police) - এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে নিয়েও অভিযুক্তকে আটক করা যায়নি বলে দাবি তদন্তকারী দলের। বরং স্থানীয় পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত পলাতক হন বলে অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। এক্স হ্যান্ডেলে একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে দাবি করা হয়, সেটি নাকি মহুয়া মৈত্র এবং ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের (Prasant Kishore) ব্যক্তিগত কথোপকথন। ‘লাভ চ্যাট’ (Love Chat) আখ্যা দিয়ে সেই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে অভিযোগ জানিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাংসদ।
Krishnanagar Police clarifies that a lawful Notice for Appearance was issued on 07.02.2026 to Surajit Dasgupta (r/o Shakarpur, Noida, UP) regarding circulation of forged chat screenshots of Smt Mahua Moitra , MP Krishnanagar. Upon non-compliance, a warrant was duly issued by the…
— Krishnanagar Police District (@KrishnanagarPD) February 11, 2026
অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ডিজিটাল ফরেন্সিক পরীক্ষায় স্ক্রিনশটটি মনগড়া ও জাল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। তদন্তে উঠে আসে, সুরজিৎ দাশগুপ্ত (অন্য সূত্রে সুরজিৎ সেনগুপ্ত নামেও উল্লেখ) নামে এক ব্যক্তি তাঁর এক্স প্রোফাইল থেকে পোস্টটি করেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাঁর প্রোফাইল বিজেপির স্থানীয় মিডিয়া সেলের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইঙ্গিত দেয়। যদিও চ্যাটের সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
নোটিস পাঠিয়েও হাজির না হওয়ায় নদিয়ার আদালত থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চার সদস্যের বিশেষ দল নয়ডায় (Noida) যায়। পুলিশ সুপার কে. অমরনাথ জানিয়েছেন, সোমবার সকালে অভিযুক্তের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে আটকও করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রেফতারি মেমো তৈরির সময় আচমকা ১০-১৫ জনের একটি নয়ডা পুলিশ দল সেখানে হাজির হয়।
অভিযোগ, বাংলার পুলিশকে ফেজ টু থানায় নিয়ে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। কেন এই পদক্ষেপ, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি বলে দাবি তদন্তকারী দলের। এই সময়ের মধ্যেই অভিযুক্ত বাড়ি ছেড়ে পালান বলে অভিযোগ। দুই বাহিনীর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। পরে উভয় রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে বাংলার দলকে ছাড়া হয়।
কৃষ্ণনগর থানার আইসি দাবি করেছেন, স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছিল রাজনৈতিক উচ্চমহলের নির্দেশ রয়েছে গ্রেফতার না করার। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই হয়নি। বর্তমানে বাংলার বিশেষ দল নয়ডাতেই অবস্থান করছে এবং একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে দুই রাজ্যের পুলিশের সমন্বয় এবং আন্তঃরাজ্য আইনপ্রয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন গ্রেফতারি প্রক্রিয়া থমকে গেল - তা নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে।