লিখিত পরীক্ষার নম্বর-সহ মেধাতালিকা প্রকাশ করতে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে নির্দেশ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 11 February 2026 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কনস্টেবল (WB police recruitment) পদে নিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। লিখিত পরীক্ষার নম্বর-সহ মেধাতালিকা প্রকাশ করতে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে নির্দেশ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া (Interview Process) শুরুর আগেই সেই নম্বর-সহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
২০২৪ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালে। ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫। তবে ফল ঘোষণার সময় দেখা যায়, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (Police Recruitment Board) যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ নেই। শুধু নির্বাচিতদের নামের তালিকাই প্রকাশ করা হয়।
নম্বর ছাড়া ফল প্রকাশের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন কয়েকজন পরীক্ষার্থী। তাঁদের অভিযোগ ছিল, নম্বর প্রকাশ না হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই মামলার শুনানিতেই আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়— লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর-সহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং তা ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার আগেই করতে হবে।
হাইকোর্টের এই নির্দেশের জেরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মামলাকারীদের বক্তব্য ছিল, প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হলেও সেখানে কোনও প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর বা বিশদ তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। তাই নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ মেধাতালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
শুধু সাধারণ শ্রেণির প্রার্থীরাই নন, তফশিলি জাতি ও ওবিসি (OBC) শ্রেণির প্রার্থীরাও এই দাবিতে সামিল হন। তাঁদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রত্যেক প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ করা জরুরি। মেধার ভিত্তিতে কার অবস্থান কোথায়, তা জানার অধিকার সকল প্রার্থীরই আছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে এই আবেদনের বিরোধিতা করে জানানো হয়, লিখিত পরীক্ষার নম্বর প্রকাশ করা আইনত বাধ্যতামূলক নয়। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, কেউ যদি নিজের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হন, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বেই।