বিচারপতি সারং কোটওয়াল ও বিচারপতি সন্দেশ পাতিলের ডিভিশন বেঞ্চ ২ ফেব্রুয়ারি এই রায় দেয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় বিশেষ আদালত কালামুদ্দিন মহম্মদ ইস্তেয়ার আনসারি ওরফে কোইলকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 10 February 2026 13:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাবালিকার উপর যৌন নিগ্রহের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির সাজা কমাল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court)। দোষ প্রমাণিত থাকলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বদলে তাঁকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, জেলে থাকার সময়ে ওই ব্যক্তি নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধের নজির নেই। তাছাড়া মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) চিন্তাধারা নিয়ে পড়াশোনা করে পরীক্ষায় পাশ করেছেন ওই ব্যক্তি। এই সব দিক বিবেচনা করেই সাজা লাঘব করা হয়েছে (Mumbai News)।
বিচারপতি সারং কোটওয়াল ও বিচারপতি সন্দেশ পাতিলের ডিভিশন বেঞ্চ ২ ফেব্রুয়ারি এই রায় দেয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় বিশেষ আদালত কালামুদ্দিন মহম্মদ ইস্তেয়ার আনসারি ওরফে কোইলকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল।
হাইকোর্ট জানায়, জেলে থাকাকালীন অভিযুক্ত বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। পুণের তিলক মহারাষ্ট্র বিদ্যাপীঠ থেকে ‘বই বিশ্লেষণ’ সংক্রান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, মুম্বইয়ের রামচন্দ্র প্রতিষ্ঠান আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং মুম্বই সর্বোদয় মণ্ডলের মাধ্যমে মহাত্মা গান্ধীর চিন্তাধারা নিয়ে পড়াশোনা করে পরীক্ষায় পাশ করার শংসাপত্র আদালতের সামনে পেশ করা হয়। এই সব বিষয় একত্রে বিবেচনা করেই সাজা নির্ধারণে কিছুটা নমনীয়তা দেখানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।
আদালত আরও উল্লেখ করে, অপরাধের সময় অভিযুক্তের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি টানা হেফাজতে রয়েছেন। কোভিড অতিমারির সময়েও তাঁকে জরুরি প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন কারাবাস এবং কোনও পূর্ব অপরাধের ইতিহাস না থাকাও সাজা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছে বেঞ্চ।
তবে অপরাধের গুরুত্ব অস্বীকার না করে আদালত স্পষ্ট করেছে, ন্যূনতম ১০ বছরের সাজা যথেষ্ট নয়। বিচারপতিদের মতে, “অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ১২ বছরের কারাদণ্ডই ন্যায়বিচারের স্বার্থ রক্ষা করবে।”
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর অভিযুক্তের বাড়িতে জল নিতে গিয়ে পাঁচ বছরের এক নাবালিকার উপর যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। আতঙ্কিত শিশুটি বাড়ি ফিরে মাকে সব জানালে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে শিশুটির মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
আপিলে অভিযুক্তের তরফে দাবি করা হয়েছিল, শিশুটিকে ‘শিখিয়ে’ সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু সেই যুক্তি খারিজ করে হাইকোর্ট জানায়, পাঁচ বছরের একটি শিশুর পক্ষে এমন অভিযোগ বানানো বা ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে মিথ্যা বলার সম্ভাবনা নেই। আদালতের মতে, শিশুটির ও তার মায়ের বয়ান স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্য। ফলে আইপিসির ৩৭৬ ধারা এবং পকসো আইনের ৬ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে সন্দেহাতীতভাবে।
এরপর আদালত নির্দেশ দেয়, বিচারাধীন অবস্থায় অভিযুক্ত যে সময় হেফাজতে ছিলেন, তা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারায় সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এই নির্দেশের সঙ্গে মামলার নিষ্পত্তি করে বম্বে হাইকোর্ট।