অভিযোগে বলা হয়েছে, মুম্বই ও দুবাইয়ে ফ্ল্যাট, শাপুরে ফার্মহাউস, বুলধানায় জমি, দামি গাড়ি— সব মিলিয়ে একাধিক সম্পত্তি এইভাবে হাতবদল হয়েছে।

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি।
শেষ আপডেট: 10 October 2025 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি-র (Nawazuddin Siddiqui) ১০০ কোটির মানহানির মামলা খারিজ করে দিল বম্বে হাই কোর্ট। নিজের ভাই শামসুদ্দিন সিদ্দিকি এবং প্রাক্তন স্ত্রী অঞ্জনা পাণ্ডে (Nawazuddin Siddiqui’s wife) বিরুদ্ধে এই মামলা করেছিলেন নওয়াজউদ্দিন। কিন্তু আদালত জানিয়ে দিয়েছে— মামলাটি সঠিকভাবে এগোনো হয়নি, তাই তা খারিজ করা হচ্ছে।
নওয়াজউদ্দিনের অভিযোগ ছিল, ২০০৮ সাল থেকে তাঁর ভাই শামসুদ্দিন তাঁর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তখন নওয়াজউদ্দিন বলিউডে খুব একটা প্রতিষ্ঠিত নন। তাই ভাইয়ের উপরই তিনি বিশ্বাস করেছিলেন। ক্রেডিট-ডেবিট কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসওয়ার্ড, ইমেল— সবকিছুই শামসুদ্দিনের হাতে ছিল।
নওয়াজউদ্দিনের দাবি, এই বিশ্বাসকেই নাকি তাঁর ভাই কাজে লাগান। তিনি যে সব সম্পত্তি কিনেছিলেন, সেগুলো ধীরে ধীরে নিজের নামে করে ফেলেন শামসুদ্দিন। তাঁর অভিযোগে বলা হয়েছে, মুম্বই ও দুবাইয়ে ফ্ল্যাট, শাপুরে ফার্মহাউস, বুলধানায় জমি, দামি গাড়ি— সব মিলিয়ে একাধিক সম্পত্তি এইভাবে হাতবদল হয়েছে।
নওয়াজউদ্দিনের আরও অভিযোগ, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী অঞ্জনাও এই ব্যাপারে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, শামসুদ্দিন ও অঞ্জনা মিলে তাঁর নামে কটূক্তি করেছেন, মানহানিকর পোস্ট করেছেন, এমনকি টাকা-পয়সার হেরফেরও করেছেন। তিনি আদালতের কাছে দাবি করেছিলেন—তাঁদের এই ধরনের মন্তব্য বা পোস্ট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হোক। দুই, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হোক ও তাঁর নামে ছড়ানো সব মিথ্যা পোস্ট মুছে ফেলতে বলা হোক। আর সর্বোপরি সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
বিচারপতি জিতেন্দ্র জৈন-এর বেঞ্চে মামলাটি শুনানি হচ্ছিল। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ হল, মামলাটি ঠিক মতো এগোনো হয়নি— সময়মতো হাজিরা বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তাই আদালত জানায়, আইন মেনে মামলা না এগোলে তা চালানো সম্ভব নয়। এই কারণেই মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয় তবে আদালতের এই রায়ই চূড়ান্ত নয়। চাইলে নওয়াজউদ্দিন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারেন।
এখন দেখার বিষয়, নওয়াজউদ্দিন ও তাঁর আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন কিনা। তবে আপাতত ভাই ও প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর ১০০ কোটির মামলা মুখ থুবড়ে পড়ল।