বাংলায় প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের সময়ই হিংসার অভিযোগ সামনে আসে। পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে লোকসভা বা বিধানসভা - প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিরোধী দলগুলি নির্বাচনী সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলে। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি বারবার অভিযোগ করেছে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে তাদের বহু কর্মী এলাকা ছাড়া হতে বাধ্য হয়েছেন।

সুব্রত গুপ্ত
শেষ আপডেট: 16 March 2026 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে নিরাপত্তা ও ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ পর্যবেক্ষক তথা নির্বাচন পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত (Election Observer Subrata Gupta) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবারের ভোটে বাংলার বহুদিনের নির্বাচনী সংস্কৃতি বদলানো হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত জানায় কমিশন (ECI)। সেই সময়ই সুব্রত গুপ্ত বলেন, ''বাংলার যে কালচার ছিল, তা বদলাবে এই ভোটে।'' তিনি স্পষ্ট করে দেন, এতদিন রাজ্যে নির্বাচনের সময় যে পরিস্থিতি দেখা যেত, এবার তার পরিবর্তন হবে। ভোট যেন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বাংলায় প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের সময়ই হিংসার অভিযোগ সামনে আসে। পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে লোকসভা বা বিধানসভা - প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিরোধী দলগুলি নির্বাচনী সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলে। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি বারবার অভিযোগ করেছে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে তাদের বহু কর্মী এলাকা ছাড়া হতে বাধ্য হয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পরবর্তী ঘটনাবলি নিয়েও এখনও বিতর্ক চলছে এবং তার কিছু বিষয় আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, ভোট প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকা পর্যবেক্ষকরা ভোট চলাকালীন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাবেন। কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
কমিশন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, এবারের নির্বাচনে সব ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে জিপিএস বসানো থাকবে, যাতে বাহিনীর চলাচল এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নজরে রাখা যায়। সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, এই দুটি পদক্ষেপই এবারের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, ভোটের প্রতিটি পর্যায়ে প্রায় ২,২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি জেলায় দুজন করে পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন এবং নগর পুলিশ এলাকার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা থাকবে।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বুথ স্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে, যাতে কোনও ভোটারকে ভয় দেখানো বা ভোট দিতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা না ঘটে। ভোটকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের পরিচয় দ্রুত নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের ছবি সংরক্ষণ করা হবে।
এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সংবেদনশীল এলাকায় প্রয়োজন হলে আকাশপথ থেকেও নজরদারি চালানো হবে। কিছু ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের দাবি, কঠোর নজরদারি এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এবারের ভোটে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।