উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়িতে তৃণমূল নেত্রীর এক নির্বাচনী সভা থেকে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে আমি বিজেপি করি না...'। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি।

সুকান্ত মজুমদার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 31 March 2026 14:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে ময়নাগুড়ির এক জনসভায় করা মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মন্তব্য নিয়ে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল বিজেপি (BJP ECI)। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ওই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক শালীনতার সীমা ছাড়ায়নি, বরং ভোটারদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়িতে তৃণমূল নেত্রীর এক নির্বাচনী সভা থেকে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে আমি বিজেপি করি না...'। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি। তাঁদের দাবি, এই ধরনের বক্তব্য সরাসরি রাজনৈতিক হিংসার ইঙ্গিত বহন করে।
সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। সেই দলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, পীযূষ গোয়েল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা কমিশনের নজরে আনা হয়েছে।
সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সুকান্তর দাবি, ভোটের ফলাফল নিয়ে আশঙ্কা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এখন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করছেন। তাঁর কথায়, ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। ময়নাগুড়ির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই ধরনের মন্তব্য উস্কানিমূলক এবং হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বিজেপির আশঙ্কা, তৃণমূল জয়ী হলে বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের উপর আক্রমণের পথ সুগম করার ইঙ্গিত রয়েছে এই কথায়।
এখানেই থেমে থাকেননি সুকান্ত। তাঁর অভিযোগ, ''আসন্ন ভোটে হারার ভয় পেয়ে এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটারদেরই ভয় দেখাচ্ছেন তিনি।'' বিজেপি নেতার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য একেবার উস্কানিমূলক এবং হিংসাত্মক। এই কথা সরাসরি ইঙ্গিত দেয় যে, ভোটের পর তৃণমূল জিতলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের আক্রমণ করা হবে। এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে বলেও দাবি বিজেপির।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য আইনসিদ্ধ নয় এবং তা অপরাধের সামিল। তাই অবিলম্বে তাঁর নির্বাচনী প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত বলে মত বিজেপির।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের পরিবেশ। একদিকে তৃণমূলের আক্রমণাত্মক প্রচার, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ - সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে, তারা এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।