সাংবাদিক বৈঠকে সাম্প্রতিক গিরিশ পার্ক এলাকার ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। গত ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশের দিন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসে। সেই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ
শেষ আপডেট: 17 March 2026 17:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা (West Bengal Assembly Election 2026 Dates) করেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্তের জেরে কলকাতা পুলিশের শীর্ষপদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে, তাঁর জায়গায় নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অজয়কুমার নন্দ (CP Ajay Kumar Nanda)। মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা (TMC Candidate List) ঘোষণার দিনই প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলার প্রস্তুতি নিয়ে বার্তা দিলেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে সাম্প্রতিক গিরিশ পার্ক এলাকার ঘটনার (Shashi Panja House Attack) প্রসঙ্গও উঠে আসে। গত ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশের দিন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসে। সেই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, বাইরের লোক এনে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে এবং তা করেছে বিজেপিই।
এই প্রসঙ্গে নতুন পুলিশ কমিশনার জানান, এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা কলকাতা পুলিশের রয়েছে। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা অবশ্যই দুঃখজনক, তবে পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম। ঘটনার তদন্তও চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যে এবং শহরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও ওই ঘটনার সময় তাদের ব্যবহার করা হয়নি কেন। এই প্রসঙ্গে অজয় নন্দ বলেন, সেই সময়ে বাহিনী ঘটনাস্থলের কাছে ছিল না। পাশাপাশি তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে খুব বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও নেই।
তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অশান্তি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেই দাবি করেন নতুন পুলিশ কমিশনার। তাঁর কথায়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানোই এখন প্রধান দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালনে পুলিশ বদ্ধপরিকর। এর জন্য যা করার তাই করা হবে।
নির্বাচনের সময় ভুয়ো খবর ছড়ানো নিয়েও সতর্ক প্রশাসন। এই বিষয়ে কমিশনার জানান, শহর ও জেলার নির্দিষ্ট আধিকারিকরা সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি চালাবেন। কোথাও ভুয়ো খবর ছড়ালে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোস্টার ছেঁড়া, দেওয়াল লিখনকে ঘিরে গোলমাল কিংবা অন্য কোনও অশান্তির অভিযোগ এলেও পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। ভোটের সময় বিস্ফোরক বা অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। সেই বিষয়েও নজরদারি চলছে বলে জানান কমিশনার।
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কলকাতা পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন অজয় নন্দ। তাঁর কথায়, পুলিশকর্মীরা ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছেন। বর্তমানে শহরে ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীও রয়েছে। লক্ষ্য একটাই - ভোট যেন অবাধ ও নির্ভয়ে সম্পন্ন হয়।