রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে অবশ্য এই সম্ভাবনার কথা আগে থেকেই ঘুরছিল। সবার প্রথমে লিখেছিল দ্য ওয়াল। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার আগ্রহ বহুদিন ধরেই প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু।

শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 17 March 2026 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) সূচি ঘোষণার পরদিনই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP Candidate List)। সোমবার ঘোষিত তালিকায় মোট ১৪৪টি আসনে প্রার্থীর নাম জানানো হয়েছে। সেই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি একসঙ্গে দুই কেন্দ্র - নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে অবশ্য এই সম্ভাবনার কথা আগে থেকেই ঘুরছিল। সবার প্রথমে লিখেছিল দ্য ওয়াল (The Wall News)। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে লড়াই করার আগ্রহ বহুদিন ধরেই প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু। বিভিন্ন জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, সুযোগ পেলে ওই কেন্দ্র থেকে লড়তে চান।
প্রার্থী তালিকায় বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষের নামও রয়েছে। তাঁকে খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। শুভেন্দুর দুই কেন্দ্র থেকে লড়াই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ জানান, এটি সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্ত।
তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গে এমন ঘটনা খুব বেশি দেখা না গেলেও দেশের অন্যত্র এর বহু নজির রয়েছে। অতীতে লোকসভা নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিক কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। একইভাবে রাহুল গান্ধীও দুটি কেন্দ্র থেকে লড়েছেন।
দিলীপ ঘোষের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করেই দল নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোন কেন্দ্রে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা শেষ পর্যন্ত দলের কৌশলগত সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করে।
প্রসঙ্গত, ভবানীপুরের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও শুভেন্দুকে সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছিল। দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে দিল্লিতে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার আগে এই বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ আলাদা করে শুভেন্দুর কাছে ভবানীপুরে লড়াই করার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান।
সেই সময় শুভেন্দু নাকি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অন্য কোনও উপযুক্ত প্রার্থী না থাকলে তাঁকে যেন ওই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে অমিত শাহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত অনুমোদন মিলতেই দুই কেন্দ্রেই শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একসঙ্গে দুটি কেন্দ্র থেকে লড়াই করার বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে দলের তরফে বিষয়টিকে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের নির্বাচনী লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম - এই দুই কেন্দ্র এখন থেকেই রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার জায়গা হয়ে উঠছে।
জানা গিয়েছে, অমিত শাহদের শুভেন্দু বুঝিয়েছেন তিনি ভবানীপুরে প্রার্থী হলে গোটা বাংলায় একটা স্পষ্ট বার্তা চলে যাবে। তা হল - তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিজেপি এবার সিরিয়াস। অনেকে যে সেটিংয়ের তত্ত্ব খাড়া করছেন তা ভেস্তে যাবে। পরিবর্তনের জন্য বিজেপি লড়াইয়ের প্রতি আস্থা বাড়বে।
তবে বিজেপির মধ্যে অনেকের মতে, এর মধ্যে শুভেন্দুর নিজেরও অঙ্ক রয়েছে। এই ভোটে বিজেপি আনুষ্ঠানিক ভাবে কাউকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু প্রার্থী হওয়ায় তিনি বাই ডিফল্ট মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রজেক্টেড হয়ে যাবেন বলেই হয়তো মনে করছেন।