বিহার নির্বাচনে ভোটের হার সাকুল্যে বাড়লেও বিজেপি যে ধুমধাম দেখিয়েছিল, তাতে অনেকেরই মনে হয়েছিল ভোটবাক্সে বুঝি সুনামি নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই সময় থেকেই বলে আসছেন— বিহার (অঙ্গ) ও ওড়িশা (কলিঙ্গ) জয় হয়েছে, এবার বঙ্গের পালা। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই কোমর বেঁধে নেমেছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই দু’দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ (BJP Candidate List 2026) করে ফেলেছে তারা।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 20 March 2026 18:58
বিহার নির্বাচনে ভোটের হার সাকুল্যে বাড়লেও বিজেপি যে ধুমধাম দেখিয়েছিল, তাতে অনেকেরই মনে হয়েছিল ভোটবাক্সে বুঝি সুনামি নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই সময় থেকেই বলে আসছেন— বিহার (অঙ্গ) ও ওড়িশা (কলিঙ্গ) জয় হয়েছে, এবার বঙ্গের পালা। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই কোমর বেঁধে নেমেছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই দু’দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ (BJP Candidate List 2026) করে ফেলেছে তারা। কাজেই দিল্লির নেতাদের হাত গুটিয়ে থাকা চলে না। তাঁরা বঙ্গে প্রচারে আসবেন তো বটেই, কিন্তু বিজেপি সূত্র বলছে, এবারের ধরন নাকি অনেকটাই আলাদা হতে চলেছে। কতটা আলাদা, তা জানার আগে ফেরা দরকার অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে।
পুরাণ ও ইতিহাস অনুযায়ী, বর্তমান বিহারের কিছু অংশ ও উত্তরবঙ্গের এলাকা নিয়ে ছিল ‘অঙ্গ’ রাজ্য। সেই এলাকা এখন অনেকটাই বিজেপির দখলে। বিহারে এনডিএ সরকার চলছে, অসমেও বিজেপি। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের মাটি গত কয়েকটি ভোটে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। আবার ‘কলিঙ্গ’ অর্থাৎ ওড়িশাতেও সম্প্রতি সরকার গড়েছে বিজেপি। তাই এবার তাদের পাখির চোখ বঙ্গ।
ওই সূত্র বলছে, বাংলা দখলের নকশা তৈরি করতে ইতিমধ্যেই রাজ্যে সাতটি সভা সেরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি ভোট ঘোষণার আগের দিন ব্রিগেডে সভা করেছেন নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর ভোটের আগে এ রাজ্যে অন্তত ১৪টি জনসভা ও রোড শো করবেন। বাদ যাচ্ছেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। গত ১ মার্চ মথুরাপুরে সভা করে তিনি প্রচারের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন। ভোট মেটা পর্যন্ত তিনি আরও ৮টি বড় কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন। বিজেপি সূত্রে খবর, মোদী-শাহদের জন্য এমন সব কেন্দ্র বেছে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে তাঁদের প্রচার সরাসরি ভোটের ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
হিন্দু ভোট টানতে তুরুপের তাস করা হচ্ছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। তিনিও ৮টি সভা ও রোড শো করবেন বলে খবর। এছাড়া বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ৭টি এবং জে পি নাড্ডা ৬টি জনসভা করবেন। তারকা প্রচারক হিসেবে থাকছেন মিঠুন চক্রবর্তী। মূলত যে আসনগুলিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা (৫০-৫০ আসন), সেখানেই মিঠুনকে দিয়ে ১০টি বড় প্রচার করানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য বিজেপি।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের হিন্দিভাষী ভোটারদের মন পেতে সাংসদ মনোজ তিওয়ারিকে কাজে লাগাতে চাইছে দল। জগদ্দল, বীজপুরের মতো এলাকায় তাঁর একাধিক সভা হতে পারে। এর পাশাপাশি ভিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও দফায় দফায় রাজ্যে আসবেন। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ পদ্ম শিবির।