সূত্রের খবর, রাজ্যে এসে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক বৈঠক করবেন জ্ঞানেশ ভারতী। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করারও কথা রয়েছে তাঁর।

জ্ঞানেশ ভারতী
শেষ আপডেট: 20 March 2026 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহেই ফের বাংলায় আসছে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) প্রতিনিধি দল। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই দু’দিনের সফরে রাজ্যে আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী (Deputy EC Gyanesh Bharti)। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ তারিখ তাঁর এই বঙ্গ সফর হতে পারে।
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (ECI Gyanesh Kumar) নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ কলকাতায় এসেছিল। সেই সফরের পরই ঘোষণা করা হয় নির্বাচনের সূচি। এবার ভোটের প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই সফর বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, রাজ্যে এসে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক বৈঠক করবেন জ্ঞানেশ ভারতী। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করারও কথা রয়েছে তাঁর।
এর আগে কলকাতায় কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফরের শেষ দিনে সাংবাদিক বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না - এ বিষয়ে কমিশন ‘গ্যারান্টি’ দিচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে কমিশন কঠোর অবস্থান নেবে এবং ‘ফিয়ার বা ফেভার’ ছাড়াই সংবিধান মেনে ভোট পরিচালিত হবে।
এই আবহেই রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক নেতারা নানা অভিযোগ তুলতে পারেন, কিন্তু কমিশন সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেবে না।
এদিকে, ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে ডিজি, সিপি, ডিআইজি - এমনকি জেলা স্তরের ডিএম ও ডিইওদেরও সরানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই ধরনের স্থানান্তরের ক্ষমতা কমিশনের নেই এবং এতে প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে কমিশনের এই সফর ও পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।