দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, কেনাকাটা আর উৎসবের আমেজ। সেই আবেগের কথা মাথায় রেখে বাংলার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 September 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো (Durga Puja) নিয়ে এবার মন খারাপ বাঙালির। কারণ মূলত দুটি। এক, ঘোর বর্ষায় পড়েছে পুজো। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে হতে পারে। আর দুই, মাসের শেষে পুজো! বৃষ্টির বিষয়টি কোনও ভাবে এড়িয়ে গেলেও এই ব্যাপারটি এড়ানো সম্ভব কীভাবে? স্বাভাবিকভাবে সকলের মনে প্রশ্ন, টাকা কোথায় পাব? তবে এই প্রশ্নের উত্তর থাকবে একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারিদের (Central Govt Employees) কাছে।
দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, কেনাকাটা আর উৎসবের আমেজ। সেই আবেগের কথা মাথায় রেখে বাংলার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder) মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন, সেপ্টেম্বর মাসের বেতন (Salary) ২৬ তারিখেই হাতে পাবেন কর্মীরা। অর্থাৎ পুজোর আগেই।
সুকান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “দুর্গাপূজার প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন দেওয়ার উদ্যোগ শুধু বাংলার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য অর্থনৈতিক স্বস্তিই নয়, বাঙালি আবেগেরও এক অনন্য সম্মান। এটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শিতারই ফল।” পোস্টে তিনি অর্থ মন্ত্রকের জারি করা নোটিসও প্রকাশ করেছেন।
দুর্গাপূজার প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবারেই প্রদানের যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছে, তার জন্য ভারতবর্ষের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী সম্মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র মোদীজিকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও… pic.twitter.com/oEM3Muff65
— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) September 16, 2025
রাজনৈতিক বার্তা?
আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তাই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ নির্বাচনের আগে বাঙালির মন জয়ের কৌশল। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, উৎসবের মরশুমে কর্মীদের স্বস্তি দিতেই এই সিদ্ধান্ত।
জিএসটি সংস্কার
কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাও আসন্ন ভোট এবং উৎসবমুখী মানুষকে মাথায় রেখে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ নতুন জিএসটি কার্যকর হতে চলেছে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। নতুন স্ল্যাব চালু হলে বহু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে।
সার্বিকভাবে জিএসটি স্ল্যাব ৫, ১২, ১৮ ও ২৮ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে দু’টি মূল স্ল্যাবে, ৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ। তবে বিলাসবহুল পণ্য, বড় গাড়ি, তামাকজাত দ্রব্যের মতো কিছু জিনিসের জন্য বিশেষ ৪০ শতাংশ স্ল্যাব রাখা হবে। এই নতুন জিএসটি-র ফলে পনির, মাখন, চিজ, ঘি, মিল্কশেক, আইসক্রিম - এসবের দাম কমে যাচ্ছে।
কী কী একেবারে করমুক্ত হচ্ছে
১. দুধ, ছানা, পনির, রুটি ও পরোটা
২. স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমা
৩. ৩৩টি জীবনদায়ী ওষুধ
৪. মানচিত্র, খাতা, পেনসিল, রবার, গ্লোব
কোন জিনিসের উপর কর ১৮ শতাংশ হল?
১. শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র (এসি), টিভি ও ডিশ ওয়াশিং মেশিন
২. মনিটর, ৩৫০ সিসির কম মোটরবাইক
৩. তিন চাকার গাড়ি, ১৫০০ সিসির কম যাত্রীবাহী গাড়ি
৪. বাস, ট্রাক ও সিমেন্ট
৫. জামা-কাপড়
কোন জিনিসের উপর কর ৫ শতাংশে নামল?
১. প্যাকেটজাত খাবার, সস, পাস্তা, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও চকোলেট
২. তেল, ঘি, মাখন, চিজ ও বিস্কুট
৩. সাবান, শ্যাম্পু, টুথব্রাশ, শেভিং ক্রিম
৪. বাসনপত্র, সেলাই মেশিন, ট্র্যাক্টর
৫. কীটনাশক ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত নানা পণ্য
৬. থার্মোমিটার, মেডিক্যাল গ্রেড অক্সিজেন, টেস্ট কিট, গ্লুকোমিটার ও চশমা
৭. মার্বেল, পাথর, চর্মজাত পণ্য ও হ্যান্ডিক্রাফটস।