রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, পর্ষদের পক্ষ থেকে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার স্বার্থে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে এই দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে আরেক ধোঁয়াশা।

রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 30 January 2026 19:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Exam 2026)। কিন্তু পরীক্ষার প্রস্তুতির ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সামনে বড় প্রশ্ন - নির্বাচনী কাজে যুক্ত কতজন শিক্ষক আদৌ পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও হিসেবই নেই পর্ষদের হাতে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের ছাড় চেয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় (Ramanuj Gangopadhayay)।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে পর্ষদ সভাপতি জানান, মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় সাধারণত স্কুল ইনস্পেক্টর ও জেলা স্কুল পরিদর্শকরাই (DI) পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান। পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রায় ৫০ হাজার ইনভিজিলেটর বা পরিদর্শকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে কত জন স্কুল জেলা পরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিএলও বা এইআরও হিসেবে নির্বাচনী কাজে যুক্ত রয়েছেন, তার কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পর্ষদের কাছে নেই।
এই প্রেক্ষিতেই রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Ramanuj Gangopadhayay) দাবি, পর্ষদের পক্ষ থেকে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালকে (Manoj Agarwal) চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার স্বার্থে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে এই দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে আরেক ধোঁয়াশা। কারণ একই দিনে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, পর্ষদের তরফে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও চিঠি তিনি হাতে পাননি।
এদিকে পরীক্ষার আয়োজনের দিক থেকে প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ বলেই জানাচ্ছে পর্ষদ। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য রাজ্য জুড়ে মোট ২ হাজার ৬৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্র বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪৫টি মূল পরীক্ষাকেন্দ্র এবং ১ হাজার ৭৩৭টি উপ-কেন্দ্র রয়েছে। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছে মোট ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৪ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৩৩ জন, ছাত্রীর সংখ্যা ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬০৬ জন এবং একজন রূপান্তরকামী পরীক্ষার্থী রয়েছে।
পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। প্রশ্নপত্র বিলি শুরু হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে পরীক্ষার সূচি নির্ধারিত থাকলেও, শিক্ষক ও পরিদর্শকের অভাব তৈরি হলে পরীক্ষার পরিচালনায় সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ। ফলে নির্বাচনী দায়িত্ব ও পরীক্ষার ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয়ই এখন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।