‘ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এন্ট্রিজ’ নামে এক বিশেষ সফটওয়্যার। নাম, ঠিকানা কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের মিল খুঁজে বের করে একই ভোটারের একাধিক এন্ট্রি দ্রুত চিহ্নিত করার কথা ছিল তার।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 30 January 2026 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০০ শতাংশ স্বচ্ছ ভোটার তালিকা—এসআইআরের মূল লক্ষ্য বলে বারবার দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই ‘স্বচ্ছতা’র ভিত্তিটাই নড়বড়ে কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কারণ, ভিন রাজ্যের ভোটারের নাম বাংলার ভোটার তালিকায় থাকলেও তা চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে কমিশন—এমনই অভিযোগ উঠছে। সূত্রের খবর, এই কাজের জন্য যে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের কথা ছিল, তা আদৌ কাজ করছে না। ফলে অন্য রাজ্যের কোনও ভোটার যদি বাংলার তালিকাতেও নাম লিখিয়ে থাকেন, কমিশনের চোখে পড়ার সম্ভাবনাই নেই।
এ ব্যাপারে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি এসআইআর এর নাম করে কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে বিজেপি। সফটওয়ারের ত্রুটির দোহাই দিয়ে একদিকে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে অন্যদিকে ভিন রাজ্যের ভোটারের নাম ঢোকানোর চক্রান্ত চলছে। ভোটের বাক্সে এর জবাব বাংলার মানুষ। গতবারের চেয়েও বিজেপির আসন সংখ্যা কমবে।"
পাল্টা হিসেবে বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, "তৃণমূল জানে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে ওদের বিপদ বাড়বে। তাই যেনতেন প্রকারে ওরা এসআইআর প্রক্রিয়া বানচাল করতে চাইছে। নানা ভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।"
প্রসঙ্গত, দেশে এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার বহু আগেই কর্ণাটক, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র-সহ একাধিক রাজ্যে একই ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় থাকার অভিযোগে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। সেই চাপেই কমিশন জানিয়েছিল, প্রযুক্তির সাহায্যে সমস্যা মেটানো হবে। চালু করা হচ্ছে ‘ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এন্ট্রিজ’ নামে এক বিশেষ সফটওয়্যার। নাম, ঠিকানা কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের মিল খুঁজে বের করে একই ভোটারের একাধিক এন্ট্রি দ্রুত চিহ্নিত করার কথা ছিল তার। দাবি করা হয়েছিল, ব্রাজিলের হেয়ারড্রেসার লারিসা নারির নাম যে হরিয়ানার ২২ জায়গায় উঠে এসেছিল, সেই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।
কিন্তু বাস্তব চিত্র নাকি ঠিক উল্টো। সূত্রের দাবি, ওই সফটওয়্যার কার্যত অচল। ফলে একই ভোটারের নাম দুই বা তার বেশি রাজ্যের তালিকায় থাকলেও তা ধরার উপায় নেই কমিশনের। বিশেষ পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো অবজার্ভারদের নজরদারিতে যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে, তার স্বচ্ছতা নিয়েই তাই প্রশ্ন উঠছে। অন্য রাজ্যের কোনও ভোটারের নাম যদি বাংলার তালিকায় থেকে যায় এবং তিনি নিজে থেকে তা বাদ দেওয়ার আবেদন না জানান, সে ক্ষেত্রে কমিশনের করার মতো কিছুই নেই।
সম্প্রতি বীরভূমের দুবরাজপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় মহারাষ্ট্রের বিজেপির জেলা পরিষদ প্রার্থী উজ্জ্বলা আপ্পা বুরুঙ্গলের নাম থাকার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তিনি সোলাপুরের বাসিন্দা এবং মহারাষ্ট্রের ভোটার হিসেবেই জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। অথচ ২০২৫ সালের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকাতেও ছিল তাঁর নাম। শুধু তা-ই নয়, তাঁকে ইনিউমারেশন ফর্মও দেওয়া হয়েছিল এবং খসড়া তালিকাতেও নাম ছিল।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর চাপের মুখে কমিশন জানায়, সরেজমিনে তদন্তে জানা গিয়েছে উজ্জ্বলা মহারাষ্ট্রের সাঙ্গোলা বিধানসভার ভোটার হিসেবেই থাকতে চান এবং বাংলার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে আবেদন করবেন। তৃণমূলের প্রশ্ন, "কিন্তু যদি ওই ব্যক্তি বাংলার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন না করেন? তার অর্থ, তাঁর নাম দুই রাজ্যেরই ভোটার তালিকাতেই থাকবে! অর্থাৎ কমিশনের সফটওয়ারের ফাঁক গলে ভোটার তালিকায় বিস্তর গরমিলের সুযোগ থাকছেই।"