এখন দেখার, নবান্নের আবেদন ও বিকল্প প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং শেষ পর্যন্ত কারা কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে থাকেন।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 30 January 2026 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কমিশনের কেন্দ্রীয় অবজারভার নিয়োগের (Observer Controversy, Elcetion Commission) সিদ্ধান্তে বদলের আর্জি জানিয়ে আইএএসদের (IAS) পর এবার আইপিএসদের (IPS) বিকল্প নামও পাঠাল নবান্ন (Nabanna, West Bengal)।
নবান্ন সূত্রের খবর, কমিশনের তরফে রাজ্যের ১০ জন আইপিএসকে কেন্দ্রীয় অবজারভার হিসেবে চাওয়া হয়েছিল। ওই ১০ পুলিশ অফিসারের মধ্যে ৮ জন অফিসারের বিকল্প হিসেবে কমিশনকে ৮ জনের নাম পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাজ্যের তরফে স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ মোট ৯ জন অফিসারকে কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। (seeking removal of 9 officers including the Home Secretary)। সেখানেও বিকল্প আইএএস অফিসারদের নাম দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি- পাঁচ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন সিনিয়র অফিসারকে কেন্দ্রীয় অবজারভার (Central Observers) হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ওই তালিকায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা-সহ ১৫ জন আইএএস ও ১০ জন আইপিএস অফিসার। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বদলেরই আর্জি জানিয়েছে নবান্ন।
নবান্নের (Nabanna) যুক্তি, ভোটের মুখে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে পাঠানো হলে আইনশৃঙ্খলা-সহ প্রশাসনিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সেই কারণেই দুদিনে স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ মোট ১৭ জন অফিসারকে কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে বিকল্প নাম দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে (seeking removal of 9 officers including the Home Secretary)।
নবান্ন সূত্রের খবর, আইপিএস ভরত লাল মিনা, রাজেশ কুমার যাদব, প্রবীণ ত্রিপাঠি, হৃষিকেশ মিনা, অখিলেশ চতুর্বেদী, সুনীল চৌধুরী, অনুপ জয়সওয়াল, সুধীর কুমার নীলকন্ঠমের বিকল্প হিসেবে কমিশনকে রাজ্য যে ৮জন অফিসারের নাম পাঠিয়েছে তাঁরা হলেন- কুণাল আগরওয়াল, সুনীল কুমার যাদব, সুরেশ কুমার চাডিভ, অজিত সিং যাদব, অনুপ ঘোষ, উৎপল কুমার নস্কর, উজ্জ্বল কুমার ভৌমিক এবং কঙ্করপ্রসাদ বারুই।
এখন দেখার, নবান্নের আবেদন ও বিকল্প প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং শেষ পর্যন্ত কারা কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে থাকেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের প্রশাসনিক টানাপড়েন নতুন নয়। তবে যে রাজ্যে ভোট হতে চলেছে, সেই রাজ্যেরই স্বরাষ্ট্রসচিবের নাম কেন্দ্রীয় অবজারভার তালিকায় থাকা নজিরবিহীন বলেই মত বিশ্লেষকদের। সেই কারণেই রাজ্যের তরফে অব্যাহতির আবেদনকে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, কেন্দ্রীয় অবজারভার নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অন্তত পাঁচবার অফিসারদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও সাড়া না পাওয়ায় কমিশন নিজেই অবজারভারদের তালিকা চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করে।