বিজেপির পার্টি অফিসে নরেন্দ্র মোদীর কুশপুতুল, ব্যানার নিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে দলের কর্মকর্তারা। শুধু কলকাতায় নয়, জেলায় জেলায়ও বিজেপি উৎসবে মেতে উঠেছে।

শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার এবং শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 14 November 2025 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছে মানুষ কী চান! বাংলার বিজেপি নেতৃত্বর মত এমনটাই। শুক্রবার বিহার ভোটের ফল পরিষ্কার হয়ে যেতেই রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিজেপির পার্টি অফিসে নরেন্দ্র মোদীর কুশপুতুল, ব্যানার নিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে দলের কর্মকর্তারা। শুধু কলকাতায় নয়, জেলায় জেলায়ও বিজেপি উৎসবে মেতে উঠেছে।
এই ভোটের ফল নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া, ''আমরা 'অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ' বলি। অঙ্গ মানে বিহার যে বিজেপির হল, কলিঙ্গ মানে ওড়িশা, সেটাও বিজেপির। এবার পড়ে রইল বঙ্গ অর্থাৎ বাংলা।'' শুভেন্দুর এই কথা শোনার পরই তাঁর আশপাশে থাকা বিজেপির নেতারা জয় শ্রীরাম স্লোগান তোলেন। শুক্রবারের এই ফলের পর বিধানসভার সামনে লাড্ডু বিলি করতেও দেখা যায় শুভেন্দুকে।
অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদারের মত, এসআইআর হওয়ার পর ভোট হল বিহারে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও বিরোধী দল অভিযোগ করেনি। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল করছে। কারণ লুটের টাকা হারানোর ভয় রয়েছে তাদের। তাঁর কথাতেও উঠে আসে 'অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ' প্রসঙ্গ। স্পষ্ট বার্তা, বাংলা বিজেপির হবেই। সুকান্তর এও হুঁশিয়ারি, বিহারে জঙ্গলরাজ খতম হয়েছে, বাংলাতেও তা খুব তাড়াতাড়ি হবে।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিহার ভোট প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায় - বিহারে মানুষ পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি আর ভাঁওতাবাজির রাজনীতিকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা আর স্থিতিশীলতার পক্ষে যে অভূতপূর্ব জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, তার ঢেউ এখন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে বাংলায়। একইসঙ্গে বলেন, বিহারের জয় এ বার্তাই দিল যে, পূর্ব ভারতের পরবর্তী বড় রাজনৈতিক উত্থানের কেন্দ্র হবে পশ্চিমবঙ্গ। যেখানে মানুষ পরিবর্তন শুধু চায় না, চাইছে এক নতুন দিশা, নতুন নেতৃত্ব, নতুন আস্থা।
বিহারের NDA–র জয় শুধু একটি নির্বাচনী ফল নয়—এটি পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে আসন্ন বৃহৎ পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিহারে মানুষ পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি আর ভাঁওতাবাজির রাজনীতিকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা আর স্থিতিশীলতার পক্ষে যে অভূতপূর্ব জনসমর্থন তৈরি হয়েছে—তার… pic.twitter.com/AyXRk9pi4Y
— Samik Bhattacharya (@SamikBJP) November 14, 2025
যদিও তৃণমূল (TMC) স্পষ্ট করে বার্তা দিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি (West Bengal Politics) একেবারেই আলাদা। তাই বিহারের (Bihar) পর বাংলাও বিজেপি (BJP) দখল করে নিতে পারবে, এমন ভাবার প্রয়োজন নেই। রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ''বিহারে বিপুল ভোট হয়েছে। এবার সবথেকে বেশি ভোট হয়েছে। আমি অভিনন্দন জানাই। কিন্তু যারা এখন উল্লোসিত হয়ে পড়ছেন, বিহার দেখে বাংলার দিকে হাত বাড়াচ্ছেন, সেটা বাড়াবাড়ি করছেন।'' অন্যদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও (Kunal Ghosh)। তাঁর সাফ কথা - শীত হোক, গ্রীষ্ম বা বর্ষা, বাংলার মানুষের ভরসার একটাই নাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
কুণালের সংযোজন, “বিহারের সমীকরণ বাংলার সঙ্গে যুক্ত নয়। তার কোনও প্রভাব আমাদের রাজ্যে (West Bengal) পড়বে না। বাংলার রাজনীতি দাঁড়িয়ে উন্নয়ন, সম্প্রীতি, আত্মসম্মান এবং মানুষের অধিকারের ভিত্তির ওপরেই।” তাঁর দাবি, এই কারণেই বাংলায় আবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এও দাবি করেন, ২০২৬-এর বিধানসভায় (West Bengal Elections 2026) ২৫০-রও বেশি আসন পেয়ে চতুর্থবার ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল কংগ্রেস।