ওই অফিসারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আর্থিক দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে রাজ্য। ডিএসপি-র নেতৃত্বে তদন্তও শুরু হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 September 2025 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলির তারকেশ্বর থানার (Tarakeshwar Police Station) এক মহিলা পুলিশ অফিসারের (Female Police Officer) বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার (Bribe) অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য সরকার (State Govt) তাঁকে শোকজ করলেও, সেই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নয় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ এত গুরুতর হলে শুধুমাত্র কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে শোকজ যথেষ্ট নয়।
ওই অফিসারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আর্থিক দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে রাজ্য। ডিএসপি-র (DSP) নেতৃত্বে তদন্তও শুরু হয়েছে। কিন্তু বুধবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের ভূমিকায় কড়া সমালোচনা করে জানায়, অভিযুক্ত নিজেই যখন ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, তখন কেন শুরু থেকেই দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয়নি? বিচারপতিদের প্রশ্ন— “শুধু গাফিলতির দায়ে শোকজ করে কি দায় এড়ানো যায়?”
মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, পুলিশের কাছে আপাতত কেবল ফোনালাপের রেকর্ড রয়েছে। সেই রেকর্ড আদালতে পেশ করা হবে। তবে সিসিটিভি ফুটেজ-সহ অতিরিক্ত নথি ও সাক্ষী এখনও হাতে আসেনি।
প্রসঙ্গত, মামলাকারী বিল্টু হাজরা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবেশীর সঙ্গে অশান্তির জেরে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। উল্টে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। এরপর সেই মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবি করেন থানার মহিলা অফিসার। ফোনে ঘুষ দাবি করার প্রমাণ রেকর্ড করে রাখেন তিনি।
যুবকের দাবি, বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানালেও কোনও পদক্ষেপ হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। প্রথমে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। কিন্তু রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে আবেদন করেন ডিভিশন বেঞ্চে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার। আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন তার দিকেই তাকিয়ে রাজ্য প্রশাসন।