কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবিলম্বে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের পরিবর্তে অনিকেত মাহাতোকে আরজি করে পোস্টিং দিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে নিয়োগপত্রও দিতে হবে রাজ্যকে।

অনিকেত মাহাতো
শেষ আপডেট: 24 September 2025 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুনিয়র ডাক্তার (Junior Doctor) অনিকেত মাহাতোর (Aniket Mahato)মামলাতেও ধাক্কা খেল রাজ্য (State Govt)। কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) নির্দেশ দিয়েছে, আরজি কর মেডিক্যাল হাসাপাতালেই তাঁকে পোস্টিং দিতে হবে। বুধবার এই মামলার শুনানিতে এই রায় দিয়েছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Justice Biswajit Basu)।
আরজি কর আন্দোলনের (RG Kar Protest) অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে রায়গঞ্জে (Raigunj) বদলি করা হয়েছিল। আর এই সিদ্ধান্তের পরই রাজ্যের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অনিকেত। তাতেই বড় জয় পেলেন তিনি। রাজ্যের সিদ্ধান্ত খারিজ করে জুনিয়র ডাক্তারকে আরজি করেই পোস্টিং দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবিলম্বে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের পরিবর্তে অনিকেত মাহাতোকে আরজি করে পোস্টিং দিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে নিয়োগপত্রও দিতে হবে রাজ্যকে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যে প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটা কোনও মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিচারপতির কথায়, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে পোস্টিং হবে সেটি বেশিরভাগ চিকিৎসকের ক্ষেত্রে মানা হলেও অনিকেত সহ আরও এক চিকিৎসকের ক্ষেত্রে মানা হয়নি। এমনটা কেন, তার কোনও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা রাজ্য সরকার আদালতে দিতে পারেনি। একই সঙ্গে, অনিকেতকে রায়গঞ্জে বদলি রাজ্যের ‘সিরিয়াস’ ভুল বলেও পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের। তাই এদিন রাজ্যের নোটিফিকেশন খারিজ করে অনিকেতের রায়গঞ্জে যাওয়ার নোটিস বাতিল করে দেয় আদালত।
চিকিৎসকদের এই বদলির মামলায় আগেও ধাক্কা খেয়েছিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, যেহেতু এই চিকিৎসকদের বেতন রাজ্য সরকার দেয়, তাই এই বিষয়টি স্যাটে (সিভিল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল) শুনানি হওয়া উচিত। তবে সেই যুক্তি মানতে চায়নি কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত আরও নির্দেশ দেয়, মামলার নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত অনিকেত মাহাতো বা অন্য কোনও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনও রকম কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato) ছাড়াও আসফাকুল্লা নাইয়া (Asfakullah Naiya) এবং দেবাশিস হালদার (Debasish Haldar) - এই দুজন চিকিৎসকের বদলি নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। তাঁদেরও অভিযোগ, এমডি, এমএস প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকা অবস্থাতেই তাঁদের রাজ্য সরকারের তরফে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তাঁরা কোনও নিয়মিত চাকরির আওতায় নন, বরং চুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে বদলির প্রশ্নই ওঠে না।
তবে অনিকেতকে নিয়ে রায় দিলেও বাকি দুজন চিকিৎসককে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি কলকাতা হাইকোর্ট। তাই তাঁদের বদলির ইস্যুটি এখনও ধোঁয়াশায় থাকছে।