west bengal assembly election 2026: মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হবে হবে করছে। নবান্নের করিডোর ধরে হেঁটে বাবুল সুপ্রিয় ঢুকছেন। উল্টো দিকে মন্ত্রী শোভনদেব। দুজনের চোখাচুখি হতেই বাবুল বলে ওঠেন, ‘আরে শোভনদা! আপনি বালিগঞ্জে দাঁড়াচ্ছেন? আমাকে বলতে পারতেন, আমিই ঢুকিয়ে দিতাম’।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও বাবুল সুপ্রিয়
শেষ আপডেট: 26 February 2026 20:12
বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo) যেদিন তৃণমূলে (TMC) এলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন সরকারি অনুষ্ঠান থেকে জনসভা—তাঁরই গানে গানে দুলবে ঘাসফুল। অথচ কিছুদিন যেতে না যেতেই মোহ ভাঙে। দেখা যায়, সুরকার ও গায়ক ইন্দ্রনীল সেন এতটাই পা জমিয়ে ফেলেছেন যে প্লে ব্যাকের সুযোগই বিশেষ পাননি সুপ্রিয় বড়াল। তার পর পরের ভোট আসতে না আসতেই তৃণমূলে জোর জল্পনা যে বাবুলকে আর বালিগঞ্জে প্রার্থী (Ballygunge Candidate) করবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। হয়তো বা বিধানসভাতেই (west bengal assembly election 2026) প্রার্থী করা হবে না তাঁকে। বরং গত কদিন ধরেই কানাঘুঁষো, খড়দহের বিধায়ক তথা ৮২ বছরের বৃদ্ধ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chatterjee) বালিগঞ্জ বিধানসভায় গিয়ে কর্মিসভা শুরু করে দিয়েছেন।
কাট টু বিষ্যুদবার বিকেল। লোকেশন- নবান্ন। মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হবে হবে করছে। নবান্নের করিডোর ধরে হেঁটে বাবুল সুপ্রিয় ঢুকছেন। উল্টো দিকে মন্ত্রী শোভনদেব। দুজনের চোখাচুখি হতেই বাবুল বলে ওঠেন, ‘আরে শোভনদা! আপনি বালিগঞ্জে দাঁড়াচ্ছেন? আমাকে বলতে পারতেন, আমিই ঢুকিয়ে দিতাম’।
বাবুল প্রত্যুৎপন্নমতি। ঘনিষ্ঠরা বলেন, ‘উইট’ আছে বাবুলের। প্রবীণ শোভনদেব বাবুলের এই দুষ্টুমি ভরা খোঁচা ঠাওর করতে ক্ষণিক সময় নেন। পরে হয়তো নির্ঘাত বুঝতে পারেন।
বাংলায় ডানপন্থী রাজনীতিতে বহুদিনের চরিত্র শোভনদেব। শ্রমিক নেতা। পোড় খাওয়াও বটে। তৃণমূলের জন্মের আগে কংগ্রেসের টিকিটে প্রথমবার বারুইপুর বিধানসভা থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। তার পর সময় গড়িয়েছে। কিন্তু অভিজ্ঞতা অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় বড় পদ পাননি। তা নিয়ে অভিমান থাকলেও বিধানসভা আঁকড়ে থাকতেও ভোলেননি। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) যখন বার বার উর্ধ্বসীমার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, তখনও প্রায় ভাবলেশহীন।
এ ব্যাপারে বাবুলের সঙ্গে পরে যোগাযোগ করা হয়। তিনি অবশ্য আর কিছু বলতে চাননি। হেসে উড়িয়ে দেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠসূত্রের দাবি, বাবুলেরও আর কিছু হয়তো যায় আসে না। দৌঁড়ঝাপ করে কাজ করার আগ্রহ ছিল তাঁর। পর্যটন মন্ত্রী থাকার সময়ে তার চেষ্টাও করছিলেন। তার পর সেই দফতর থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সার বুঝ বুঝে গেছেন। সেই কারণেই হয়তো এতটা বেপরোয়া। নইলে শোভনদেবের মুখের উপর দুম করে এমন কথা বলে দিতে কেই বা পারে!