অভিষেকের কাছে সাংসদ বা বিধায়ক পদে লড়ার জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা হল ৭০। কারণ, তাঁর মতে, একজন মানুষ ৪০ বা ৪৫ বছর বয়সে যতটা দৌঁড়ঝাপ করতে পারেন, ৭০ বছরের পর স্বাভাবিক নিয়মে তা পারেন না।
.jpeg.webp)
অভিষেক ও প্রতিকুর।
শেষ আপডেট: 21 February 2026 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিপিএমের (CPM) তরুণ তুর্কী প্রতিকুর রহমান (Pratikur Rahman) একদিকে তৃণমূলে (TMC) যোগ দিলেন, আর তার পরক্ষণেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বললেন, ‘আমি তো দলে একটা ঊর্ধ্বসীমার (Age Limit) কথা বলেছি...।’ শনিবাসরীয় বিকেলে এই ছবিটা কী তৃণমূলের বৃদ্ধতন্ত্রের ভিত নড়িয়ে দিল?
প্রশ্ন উঠতে পারে কেন?
কারণ রাজনীতি অর্থবহ হয়ে ওঠে সময়ের গুণে। সাধারণ ধারণা হল, মার্চ মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের গোড়ায় নির্বাচন কমিশন ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেবে। তৃণমূলের আবহকালের রীতি অনুযায়ী তার পরের দিনই প্রার্থী তালিকা (Candidate List) প্রকাশ হয়ে যাওয়ার কথা। সুতরাং হাতে রয়েছে আর কুড়ি দিনের মতো। তার আগে এদিন আমতলার (Amtala) রাস্তায় একটা দেওয়াল লিখন দিব্যি দেখা যাচ্ছিল। তা হল, তৃণমূলের প্রতীকে এবার প্রার্থী হতে পারেন প্রতিকুর।
কিন্তু ঘটনা তো শুধু তা নয়। বরং এটাও এক প্রকার প্রতীকি। কারণ, অভিষেক এদিন স্পষ্ট করেই বলেন, তিনি চান, নতুন প্রজন্মকে আরও আরও বেশি করে এগিয়ে দিতে। এই যেমন সায়নী ঘোষ যুব তৃণমূলের সভানেত্রী ছিলেন, তাঁকে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হল। তার পর লোকসভার সাংসদ হয়ে গেলেন তরুণী সায়নী।
এবং এর পরই অভিষেক যে কথাটি বলেছেন, সন্ধেয় মন্দিরের ঘণ্টার মতই তা যেন ঢংঢং করে বাজতে শুরু করেছে, দলের একাংশ প্রবীণ ও বৃদ্ধ বিধায়ক, মন্ত্রী, নেতার কানে।
অভিষেক বলেন, “আমি তো দলে একটা ঊর্ধ্বসীমার কথা বলেছি। মানুষ যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন রাজনীতি করবে—এমন তো হতে পারে না। তাঁকে তো অন্য কিছুও করতে হতে পারে।” তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এও বলেন, “মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে জন প্রতিনিধি হতে হয় না। শুধু সদিচ্ছা লাগে।”
মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, অভিষেকের কাছে সাংসদ বা বিধায়ক পদে লড়ার জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা হল ৭০। কারণ, তাঁর মতে, একজন মানুষ ৪০ বা ৪৫ বছর বয়সে যতটা দৌঁড়ঝাপ করতে পারেন, ৭০ বছরের পর স্বাভাবিক নিয়মে তা পারেন না। তা ছাড়া জনপ্রতিনিধি মানে তো জনতার মধ্যে থাকতে হবে সারাক্ষণ। সেটা অল্প বয়সে যত বেশি সম্ভব, বেশি বয়সে ততটা সম্ভব হয় না। পারফরমেন্স কমে যায়।
এর পাল্টা যুক্তি দিয়ে সৌগত রায় অবশ্য বলেছিলেন, ‘আমরা কারখানার শ্রমিক নই যে ঘণ্টা দিয়ে উৎপাদন বা পারফরমেন্স মাপা যাবে’। সৌগত রায়ের যুক্তি দিদির (Mamata Banerjee) কাছে গ্রাহ্য হলেও অনেকের কাছেই তা সঠিক ঠেকেনি। কারণ, তাঁদের মনে হয়েছিল, যেনতেন প্রকারে সৌগত রায়ের মতো নেতারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পদে থেকে যেতে চান। তাই এ সব কথা বলছেন। বাস্তব হল, দল বড় হয়েছে। পরের প্রজন্মেরও যোগ্যতা, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁদের কাজ শুরু অন্যের জন্য দেওয়াল লেখা নয়। বা তা হতেও পারে না।
পুরনো প্রসঙ্গ থাক। নতুন কথা হল, বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই নিয়ে দু'দিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর পরই তিনি যখন ঊর্ধ্বসীমার কথা বলেছেন, তখন অনেকে ধরে নিচ্ছেন, এবারও সেই শর্ত বাস্তবায়নের চাপ দিচ্ছেন তিনি। তাতে কিছু না কিছু তো ফল হবেই। অর্থাৎ কিছু বৃদ্ধ বিধায়কের টিকিট কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা আঠারো আনা।
ঘটনা হল, অভিষেক এদিন এ ব্যাপারে মুখ খোলার আগেই কেউ কেউ হয়তো হাওয়া বুঝে গেছেন। যেমন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক জন ৭৭ বছর বয়সী বিধায়কের কণ্ঠে এদিন একটু উল্টো সুর শোনা গেছে। তিনি কী আন্দাজ করছেন কে জানে!
প্রতিকুরের তৃণমূলের যোগ দেওয়াটা যেমন এদিন প্রতীকী, তেমনই নজর করার মতো হয়ে রইল অভিষেকের ফর্মুলাও। এখন হিসাব কষে দেখতে হবে, ঊর্ধ্বসীমা টপকে কে কে এরই মধ্যে ওপারে চলে গেছেন।
ও হ্যাঁ, এখানে একটা তথ্য না রাখলে সবটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে যাওয়া একজন বর্তমান বিধায়ক হলেন অশোক দেব। তিনি বজবজের বিধায়ক। বয়স ৭৬ বছর। সকাল ৬টা হোক বা রাত ১২টা, সব সম তাঁকে এলাকার মানুষের দরকারে পাওয়া যায়। অশোকবাবু কিন্তু অভিষেকের গুড বুকে রয়েছেন বলেই খবর। তাই ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে গেলেও পারফরমেন্স অটুট থাকলে ব্যতিক্রম ঘটতেই পারে।