‘বিদ্রোহী’ তকমা জুড়ে যাওয়া প্রতিকুর রহমানকে (Pratikur Rahaman) নিয়ে সিপিএম (CPIM) কী অবস্থান নিতে চলেছে, এই প্রশ্ন উঠতেই সাংবাদিক সম্মেলনে বিরক্তি স্পষ্ট রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের (Md Salim) চোখে-মুখে।
.jpeg.webp)
প্রতিকুর রহমান ও মহম্মদ সেলিম
শেষ আপডেট: 20 February 2026 20:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বিদ্রোহী’ তকমা জুড়ে যাওয়া প্রতিকুর রহমানকে (Pratikur Rahaman) নিয়ে সিপিএম (CPIM) কী অবস্থান নিতে চলেছে, এই প্রশ্ন উঠতেই সাংবাদিক সম্মেলনে বিরক্তি স্পষ্ট রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের (Md Salim) চোখে-মুখে। সরাসরি বললেন, “আমি কারও শুনানির বিচারক নই। এখানে কেউ ফরিয়াদ জানাতে আসেনি। সাংবাদিক বৈঠক রায় দেওয়ার জায়গা নয়।”
তবে প্রাথমিক ক্ষোভ কাটিয়ে প্রতিকুর প্রসঙ্গে দলের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট করেন সেলিম। তাঁর কথায়, গত দেড়-দু’মাস ধরে প্রতিকুরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সিপিএমের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কমিটি রয়েছে—সেই কমিটির কাছেই অভিযোগগুলি পাঠানো হয়। পরে তিনি নিজেও সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হন। সেলিম বলেন, “তারপর থেকেই সম্পর্কের টানাপড়েন বাড়ে।”। সেলিম জানান, তিনি সংবাদমাধ্যম থেকেই জানতে পেরেছেন প্রতিকুর নাকি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দল নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সিদ্ধান্ত হলে তা প্রকাশ্যে জানানো হবে।
প্রতিকুরের রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও মন্তব্য করেছেন সেলিম। তাঁর দাবি, “প্রতিকুরের ব্র্যান্ড ভ্যালু সিপিএম থেকেই তৈরি হয়েছে। এই ধরনের কর্মীকে হারানো সন্তানের মৃত্যুর মতো বেদনার।” যদিও সঙ্গে সঙ্গেই তিনি যোগ করেন, “মা সন্তানের মৃতদেহ আগলে রাখে, এটা সায়েন্টিফিক নয়।” ইঙ্গিত স্পষ্ট, আবেগ নয়, সংগঠনের নীতি ও সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
ঘটনার সূত্রপাত সপ্তাহের শুরুতে। ডায়মন্ড হারবারের তরুণ মুখ প্রতিকুর রহমান দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও কার্যকলাপের বিরোধিতা করে চিঠি দেন। তাতে তিনি সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং জেলা ও রাজ্য কমিটির সমস্ত দায়িত্ব ছাড়তে চান বলে জানান। সেই চিঠি প্রকাশ্যে আসে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের মাধ্যমে। চিঠি ফাঁস হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিকুর। প্রশ্ন তোলেন, দলের অন্দর থেকে তাঁর ব্যক্তিগত চিঠি বাইরে গেল কীভাবে? এ নিয়ে তিনি দলের কাছে জবাবদিহিও চান।
এর পর সদ্য সমাপ্ত সিপিএমের রাজ্য সম্মেলনে প্রতিকুরকে আর ডাকা হয়নি। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁর দ্বন্দ্ব নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতৃত্বের সঙ্গে। এরই মধ্যে তাঁর তৃণমূলে যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এক তরুণ মুখকে ঘিরে সিপিএমের অন্দরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা আর গোপন নেই। এখন নজর—দল শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রতিকুরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।