ভোটের মরশুমে কোনও ছোট, বড় বা মাঝারি নেতা দুম করে দল ছাড়লে এমনই হয়। সেটাই দস্তুর। তবে এই জল্পনা-কল্পনার মধ্যে আসলটা জানতে দ্য ওয়াল যোগাযোগ করেছিল প্রতিকুরের সঙ্গে।

নওশাদ সিদ্দিকি ও প্রতিকুর রহমান
শেষ আপডেট: 16 February 2026 16:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিপিএম-এর (CPIM) রাজ্য কমিটি থেকে 'পদত্যাগ' করেছেন প্রতিকুর রহমান (Pratikur Rahaman CPIM)। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ‘পার্টির কিছু জেলার নেতা ও রাজ্য নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতির’ সঙ্গে তিনি নিজেকে ‘খাপ খাওয়াতে’ পারছিলেন না। তাই এমন এমন পদক্ষেপ তাঁর। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে প্রতিকুর নাকি তৃণমূলে যাচ্ছেন (TMC)। আর এক পক্ষের দাবি, তৃণমূল বিরোধী কোনও দলকে বেছে নেবেন তিনি। তা হতে পারে নওশাদ সিদ্দিক্কির আইএসএফ (ISF)। সেখানেই নাকি ‘খাপে খাপ’ হতে পারে। কারণ, নওশাদের জনভিত্তির অনেকটাই দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। প্রতিকুরেরও তাই।
ভোটের মরশুমে কোনও ছোট, বড় বা মাঝারি নেতা দুম করে দল ছাড়লে এমনই হয়। সেটাই দস্তুর। তবে এই জল্পনা-কল্পনার মধ্যে আসলটা জানতে দ্য ওয়াল যোগাযোগ করেছিল প্রতিকুরের সঙ্গে।
দ্য ওয়ালকে প্রতিকুর বলেন, "কেউ বলছে আমি আইএসএফ-এ যাব, কেউ বলছে তৃণমূল বা কংগ্রেসে। কেউ আবার বলছে নাকি আমি বিজেপি-ও করব। যারা এসব বলছে তারাই ঠিক করুক আমি কোন দলে যাচ্ছি। তারপর আমি আমার সিদ্ধান্তের কথা জানাব।"
যার অর্থ প্রতিকুরও জানেন, তাঁর পদক্ষেপের প্রতি ইঞ্চি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। তাঁর ইস্তফার চিঠি যেভাবে এদিন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তাও বেশ চোখে পড়ার মতোই।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এরকম পরিস্থিতি যেমন ওই নেতাকে আনন্দ দেয়, তেমনই দেয় উৎকণ্ঠাও। আনন্দ এই কারণে যে এক সঙ্গে এত মানুষ আগ্রহ নিয়ে তাঁর ব্যাপারে আলোচনা করছেন। আর উৎকণ্ঠা হল, সাময়িক উৎসাহ ও আর বাহবার মধ্যে তিনি কি সত্যিই সঠিক পথটি বেছে নিতে পারবেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে।
প্রতিকুর অবশ্য তাঁর মনের মধ্যে দোলাচলের টের পেতে দেননি। দ্য ওয়ালের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "প্রথম কথা হচ্ছে আমি যে পদত্যাগ করলাম, সেটা কী করে জানা গেল? আমি কি আমার সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বলেছি? আমার বিবৃতিতে কোথাও বলেছি? বলিনি। আমার দলের কিছু ভিতরের বিষয়, সেটা দলের ভিতরেই প্রশ্ন করেছি। বাইরে কিছু বলব না”।
প্রতিকুর আরও বলেন, “আমাকে যদি পদত্যাগ করতেই হত, তাহলে সেটা তো আমি সোশ্যাল মিডিয়াতেই লিখে দিতাম। আমি তো সেটা করিনি। আমি একটা দলের রাজ্য কমিটির সদস্য। ফলে সেই দলে আমার প্রশ্ন করার অধিকার এক্তিয়ার দুই-ই আছে। আমি সেই দলের মধ্যে যা করার করেছি। তা সে পদত্যাগ পত্রই হোক বা প্রেমপত্র। এটা দলের আভ্যন্তরীণ বিষয়। সেই বিষয়টা যদি আমার বক্তব্য বলে চালিয়ে দেয় তার দায় তো আমার নয়।"
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কী এমন হল, যে প্রতিকুর দলে খাপ খাওয়াতে পারছেন না? কিছুদিন আগেই সিপিএম-এর এক তরুণ নেতার সঙ্গে প্রতিকুরের প্রকাশ্য মতবিরোধ ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে প্রতীক লেখেন, “নীতি-নৈতিকতা ছাড়া, আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।” সেখানে যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবু দলের অন্দরে সেই বার্তার তাৎপর্য নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে।
যাঁকে ঘিরে এই আলোচনা, তিনি বাম শিবিরের অন্যতম তরুণ মুখ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। জয় না এলেও লড়াকু মনোভাব ও আক্রমণাত্মক প্রচারের জন্য দ্রুত জনপ্রিয়তা পান কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে।
স্পষ্ট করে প্রতিকুর এও জানিয়েছেন, "আমি আবারও বলছি, আমি প্রথম আইনজীবী তারপর রাজনীতি। দুটোর কম্বো। আমায় জিজ্ঞেস করা হবে, এই চিঠি আমার কিনা। আমি বারবার বলে যাব দলের মধ্যে যা বলার বলেছি বাইরে কিছু বলব না।"
প্রতিকুরের দলবদলের চর্চা নিয়ে দ্য ওয়াল ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল। যদিও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে নওশাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, প্রতিকুর আইএসএফে যোগ দিতে চাইলে দল স্বাগত জানাতে দ্বিধা করবে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আইএসএফ আগের চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছে। প্রতীক হাত মেলালে সংখ্যালঘু তরুণদের মধ্যে ভাল বার্তা যাবে। বাকিটা সময় বলবে।