কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যে ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের কথা জানিয়ে দিল। এই কমিটিই রাজ্যে CAA-র আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন খতিয়ে দেখে অনুমোদন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে। যার মোদ্দা অর্থ এখন একটাই, মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে যে আবেদনগুলি জমা পড়েছে, তাঁদের ভোটের আগেই নাগরিকত্ব দিয়ে দিতে চাইছে সরকার।

অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 21 February 2026 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক সেরে এসে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শেষমেশ হলও তাই। বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যে ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের কথা জানিয়ে দিল। এই কমিটিই রাজ্যে CAA-র আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন খতিয়ে দেখে অনুমোদন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে। যার মোদ্দা অর্থ এখন একটাই, মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua Community) মধ্যে থেকে যে আবেদনগুলি জমা পড়েছে, তাঁদের ভোটের আগেই নাগরিকত্ব দিয়ে দিতে চাইছে সরকার।
তৃণমূল কংগ্রেস (Trinomul Congress) সরকার দীর্ঘদিন ধরেই CAA-র বিরোধিতা করে আসছে, আইনটিকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সেই অবস্থায় কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব নীতিশ কুমার (Nitish Kumar) ব্যাসের জারি করা নির্দেশে জানানো হয়েছে, নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৬বি ধারা এবং নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হল। কমিটির প্রধান হিসেবে থাকবেন ডিরেক্টরেট অব সেন্সাস অপারেশনস, পশ্চিমবঙ্গের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল।

কমিটির সদস্যরা কারা?
কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন—
সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার এক আধিকারিক
সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের মনোনীত প্রতিনিধি
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের স্টেট ইনফরমেটিক্স অফিসার (আন্ডার সেক্রেটারির নিচে নয়)
পোস্টমাস্টার জেনারেল বা তাঁর মনোনীত ডেপুটি সেক্রেটারি স্তরের ডাক বিভাগের আধিকারিক
এ ছাড়া বৈঠকে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বা অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের মনোনীত প্রতিনিধি। কেন্দ্রের দাবি, এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে CAA বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ হল। ১১ মার্চ ২০২৪-এ সারা দেশের জন্য যে কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল, রাজ্যস্তরে তা কার্যকর করতে এই এমপাওয়ার্ড কমিটি অপরিহার্য ছিল।
কারা পাবেন নাগরিকত্ব?
CAA অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-র আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা নির্যাতিত অমুসলিম শরণার্থীরা—হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান—এই আইনের আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য। ভোটের আগে এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।