আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নিতে পারবে না পুলিশ। তবে আদালতের নির্দেশ, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অরুণবাবুকে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 August 2025 20:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় (Voter List) নাম তোলা ও বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে চাঞ্চল্যকর কারচুপির অভিযোগে সাসপেন্ড হওয়া কাকদ্বীপ মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম ম্যানেজার (Kakdwip, System Manager) অরুণ গোরাইকে সাময়িক স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নিতে পারবে না পুলিশ। তবে আদালতের নির্দেশ, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অরুণবাবুকে।
অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট ইআরও লগ-ইন আইডি অবৈধভাবে ব্যবহার করে ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় তোলা এবং বৈধ নাম বাদ দেওয়ার পিছনে যুক্ত ছিলেন ওই অফিসার। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়, দায়ের হয় এফআইআরও।
এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অরুণ। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, এই গোটা ঘটনায় বৃহত্তর একটি চক্র জড়িত, যা রাজ্যজুড়ে ভুয়ো ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির কাজ করছে। তাঁর আর্জি ছিল, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্ত হোক।
মঙ্গলবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলার শুনানি হয়। অরুণবাবুর আইনজীবী দাবি করেন, হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার পরই তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারাও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাল্টা রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অভিযুক্ত তদন্তে সহযোগিতা করছেন না, তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন।
সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জানান, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অরুণবাবুকে। পাশাপাশি, তাঁর মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড বৃহস্পতিবারের মধ্যে হরউড পয়েন্ট কোস্টাল থানায় জমা দিতে হবে। পরবর্তী শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর। তার আগে পর্যন্ত গ্রেফতারি-সহ কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না বলেই জানিয়ে দেন বিচারপতি।
এই মামলায় কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে আদালত ইতিমধ্যেই তাদের হলফনামা আকারে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।
এখন দেখার, ভোটার তালিকা কারচুপি মামলায় তদন্ত কতদূর এগোয় এবং নতুন করে আর কী কী তথ্য সামনে আসে।