প্রধানমন্ত্রীর ক্রমাগত সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, ‘‘ইলেকশন এলেই আপনি রোজ পরিযায়ী শ্রমিকের মতো আসছেন। আমি চাই আপনি রোজ আসুন। বিমান ফ্রি, হেলিকপ্টার ফ্রি, রাস্তাও ফ্রি—সবই তো পাচ্ছেন ফ্রিতে! আমি তো সরকার থেকে এক পয়সাও নিই না।"

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 26 August 2025 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রীর PM Modi) রাজ্য সফর এবং দুর্নীতি নিয়ে কটাক্ষের জবাবে এ বার পাল্টা তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)। নাম না করেই মোদীকে ‘দুকান কাটা’ বলে কটাক্ষ করলেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ভূমিকা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‘কমিশন যেন বিজেপির ললিপপ!’’
শুক্রবার কলকাতায় মেট্রো উদ্বোধনে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে বাংলার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে শনিবার বর্ধমানের সরকারি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরও নম্বর কাটা হচ্ছে। বাংলাকে চোর বলা হচ্ছে। অথচ চোরদের, গদ্দারদের সঙ্গেই মিটিং চলছে। লজ্জা করে না!’’
এরপর নিজের চেনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মমতা বলেন, ‘‘লজ্জা, ঘৃণা, ভয়—এই তিন থাকতে নেই। একটা কান কাটা থাকলে আর একটা কান কাটার ভয় থাকে। ওদের দু’টো কানই কাটা! তাই আর ভয় কীসের?’
মমতা এও বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমি একথা আশা করিনি। আমি যেমন ওনার চেয়ারকে সম্মান করি, তারও উচিত আমাদের চেয়ারগুলোকে সম্মান করা। তা না করে কেন বলবেন, বাংলার সবাই চোর! সবচেয়ে বড় চোর তো উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, যেখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার আছে!"
এরপরই নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভোট এলেই এনআরসি করতে হবে? নতুন করে নাম কাটতে হবে? ইলেকশন কমিশনকে প্রণাম জানাই, সালাম জানাই—কিন্তু প্লিজ বিজেপির ললিপপ হবেন না। তা হলে কিন্তু মানুষ ক্ষমা করবে না।’’
প্রধানমন্ত্রীর ক্রমাগত সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, ‘‘ইলেকশন এলেই আপনি রোজ পরিযায়ী শ্রমিকের মতো আসছেন। আমি চাই আপনি রোজ আসুন। বিমান ফ্রি, হেলিকপ্টার ফ্রি, রাস্তাও ফ্রি—সবই তো পাচ্ছেন ফ্রিতে! আমি তো সরকার থেকে এক পয়সাও নিই না।"
দমদমের সভা থেকে মোদী অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূল মানেই দুর্নীতি। এদিন বর্ধমানের সভা থেকে যার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি সাতবারের এমপি। মাসে কিছু না হলেও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পেনশন পেতাম, এক পয়সা নিই না, সেগুলো কেউ মনে রাখে না। চিফ সেক্রেটারি বসে আছে, তার সামনেই বলছি। সার্কিট হাউসে থাকলেও নিজের বিল মেটায়। সরকার থেকে নিই না। আমি গান লিখি, বই লিখি, তার থেকে আমার চলে যায়। আমি একা মানুষ, খাই তো একবেলা, আমার আর কীসের দরকার।
বাংলায় কথা বলার জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে এরপরই সরাসরি কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলা মায়ের সম্মানে আঘাত করলে আমার গায়ে লাগে। বাংলার অপমান আমি বরদাস্ত করব না। আমাকে যা খুশি গালি দিন, কুৎসা করুন, আমি লড়ে নেব। বুকের পাটা আছে। এটা আমার মাটি, মায়ের শক্তি। আমাকে ভয় দেখিয়ে কিছু হবে না।’’