বর্ধমানের সরকারি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। তার ওপর ডিভিসির জল জেলা গুলোকে ভাসিয়ে দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও আমরা যথাসাধ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।"

বর্ধমানে সরকারি সভায় মুখ্যমন্ত্রী।
শেষ আপডেট: 26 August 2025 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবারের অতিবৃষ্টিতে বহু মানুষের ঘর ভেঙে পড়েছে, দ্রুত তঁদের নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক সভা থেকে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)।
বর্ধমানের সরকারি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। তার ওপর ডিভিসির জল জেলা গুলোকে ভাসিয়ে দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও আমরা যথাসাধ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।"
এরপরই জেলাশাসকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বর্ষায় যাদের বাড়ি ভেঙে পড়ছে, ডিএমদের বলব, তার লিস্ট সিএসদের পাঠিয়ে দিতে। আমরা দ্রুত তাদের বাড়ি তৈরি করে দেব। বাংলা আবাস যোজনা নয়, এটা আমরা আলাদা করে করব।"
এরপরই কেন্দ্রের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে, পানীয় জলের প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে, সর্বশিক্ষার টাকা ২ বছর বন্ধ, বাংলার বাড়ি বন্ধ, তা সত্ত্বেও ৪৭ লক্ষ মাটির বাড়ি পুনর্নিমাণ করেছি, এবছরে ১২ লক্ষ পাকা বাড়ি তৈরির টাকা দিয়ে দিয়েছি, আরও ১৬ লক্ষ মানুষ ডিসেম্বরে, বাকিরা জুন মাসে পাবে। সব মিলিয়ে আমরা এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৫ লক্ষ বাড়ি তৈরি করে দিয়েছি।
ধান উৎপাদনে সারা দেশে বাংলা প্রথম বলেও এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের সরকারি সভা থেকে ১৪টি জেলার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করেন তিনি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ নানা পরিষেবার সুবিধা পৌঁছল। এর মধ্যে রয়েছে ৭২ হাজার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও ৫০ হাজারের অধিক স্বসাহায্য গোষ্ঠীকে সহযোগিতা প্রদান এবং প্রায় ৯ হাজার স্কুল পড়ুয়াকে সরকারি সুবিধা বিতরণ।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ২০২৫ সালের নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য সাইকেল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে আট ধাপে মোট ১ কোটি ৩৮ লক্ষ সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। এবারে সারা রাজ্যে সাড়ে ১২ লক্ষ পড়ুয়াকে সাইকেল বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়, যার আনুষ্ঠানিক সূচনা বর্ধমান থেকে হয়।
মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ২ লক্ষ ২৬ হাজার গৃহ পাট্টা, ১ লক্ষ ৮০ হাজার কৃষি পাট্টা এবং ৪৭ হাজার বন পাট্টা বিতরণ করা হয়েছে। এদিন ২৮ হাজার পাট্টার নতুন স্লিপ বিতরণ করা হয় এবং আরও ২৪ হাজার পাট্টা দ্রুত বিতরণের ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।