২১ সেপ্টেম্বর মহালয়া। আর মহালয়া মানেই দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা। ইতিমধ্যেই কলকাতার বাজারে শুরু হয়েছে পুজোর প্রস্তুতি, জমজমাট কেনাকাটা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 26 August 2025 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়া। আর মহালয়া মানেই দুর্গাপুজোর (Durga Puja) শুভ সূচনা। ইতিমধ্যেই কলকাতার (Kolkata) বাজারে শুরু হয়েছে পুজোর প্রস্তুতি, জমজমাট কেনাকাটা। সেই উৎসবের আবহ ছুঁয়ে গেল বর্ধমানের সরকারি সভা থেকেও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee) জানালেন, চলতি বছরের দুর্গাপুজোর জন্য তিনি লিখেছেন একাধিক গান (Song)।
সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “প্রতিবারের মতো এবারও পুজোর জন্য কয়েকটি গান লিখছি।” এর পরই তিনি জানান, কলকাতার একটি মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে একেবারে শস্য দিয়ে—ধান, গম, ডালসহ নানা কৃষিজ পণ্যে। সেই থিমকে মাথায় রেখে গান চেয়েছিলেন উদ্যোক্তারা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেও দিয়েছেন।
তিনি নিজের লেখা গানের প্রথম লাইনও শোনালেন জনসভায়—“ধনধান্যে ভরে, মা এসেছেন ঘরে।”
তবে কোন পুজো কমিটির জন্য এই গান লেখা হয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানাননি মুখ্যমন্ত্রী। কারণও ব্যাখ্যা করা যায়—কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই থিমের লড়াই, আকর্ষণের চমক। পুজোর আগেই থিম ফাঁস করে দিতে চান না উদ্যোক্তারাও। সেই কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী থিমের নাম গোপন রাখলেন।
এদিন সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “ইলেকশন এলেই আপনি পরিযায়ী শ্রমিকের মতো আসছেন। আমি চাই আপনি রোজ আসুন। বিমান, হেলিকপ্টার, রাস্তা—সবই তো পাচ্ছেন ফ্রিতে! আমি তো সরকার থেকে এক পয়সাও নিই না।”
প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগেই দমদমে এক সভা থেকে তৃণমূলকে দুর্নীতির প্রতীক বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি সাতবারের এমপি ছিলাম। চাইলে মাসে আড়াই-তিন লক্ষ টাকা পেনশন পেতাম, কিন্তু এক পয়সাও নিই না। আমি গান লিখি, বই লিখি, সেখান থেকেই আমার চলে যায়। আমি একা মানুষ, খাই একবেলা, আর কিই বা দরকার!” তিনি আরও জানান, সরকারি সফরে গেলেও নিজের খরচ নিজেই মেটান।
দুর্গাপুজোর আবহে শস্যের ছোঁয়ায় মণ্ডপ তৈরির ভাবনা নিঃসন্দেহে অভিনব। আর মুখ্যমন্ত্রীর লেখা গান সেই থিমে যোগ করেছে অন্য মাত্রা। এবার অপেক্ষা পুজোর মণ্ডপে সেই গান ও থিমকে একসঙ্গে দেখার।