জানা গেছে, বারুইপুর পূর্ব এবং ময়না— এই দুই কেন্দ্রে ভোটার তালিকায় নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত ও বাদ দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছিল। কমিশন তদন্ত শুরু করতেই সামনে আসে বিস্ফোরক তথ্য।

কমিশনের চিঠি।
শেষ আপডেট: 5 August 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচনী কাজে গাফিলতি বা অসততা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। এবার ভোটার লিস্টে কারচুপির অভিযোগে বারুইপুর পূর্ব (Baruipur Purba) এবং ময়না (Moyna) বিধানসভা কেন্দ্রের দুই ইআরও (Electoral Registration Officer) এবং দুই সহকারী ইআরও (Assistant ERO)-কে সাসপেন্ড করল কমিশন। একইসঙ্গে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর-এর বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা রুজু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে।
সূত্রের খবর, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অনিয়মে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকাকালীন ভোটার তথ্য যাচাই এবং সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অসততা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারচুপি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তাই কমিশনের নির্দেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, “ভোটার তালিকা জাতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি। সেখানে সামান্যতম কারচুপিকেও বরদাস্ত করা হবে না। বারুইপুর পূর্ব ও ময়নায় যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত গুরুতর। আমরা চাই না এই ধরনের কর্মীরা সিস্টেমে থাকুন।”
জানা গেছে, বারুইপুর পূর্ব এবং ময়না— এই দুই কেন্দ্রে ভোটার তালিকায় নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত ও বাদ দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছিল। কমিশন তদন্ত শুরু করতেই সামনে আসে বিস্ফোরক তথ্য।
তবে কমিশনের এই পদক্ষেপ সামনে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, "কমিশন বিজেপির কথা মতো কাজ করছে। পরিকল্পিতভাবে ইআরও এবং সহকারী ইআরওদের মধ্যে ভয়ের বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।"
বিজেপির অভিযোগ, “এই ঘটনাই প্রমাণ করে রাজ্যের অনেক এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে অবৈধ কার্যকলাপ চলছে। নির্বাচন কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটা প্রশংসাযোগ্য।”
গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ছড়িয়েছে। তবে কমিশনের এই পদক্ষেপ যে আগামী দিনে অন্য আধিকারিকদের জন্য সতর্কবার্তা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।