শুভেন্দু এও বলেন, "কোচবিহারের এসপি-কে এর জবাব দিতে হবে। আমি যা করার করব। রাজ্য সরকারের এই প্রশাসনিক নিস্ক্রিয়তা মেনে নেওয়া যায় না।"

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 5 August 2025 22:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে কোচবিহারে (Cooch Behar) গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। গাড়ির কাচ ভাঙা, পাথর ছোড়ার অভিযোগ তুলে সরব হলেন তিনি। সরাসরি অভিযোগ করলেন রাজ্যের শাসকদল ও পুলিশের বিরুদ্ধে।
এদিন কোচবিহার পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বুলেটপ্রুফ গাড়ির ভাঙা কাচ দেখিয়ে শুভেন্দু বলেন, "তৃণমূল কায়দা করে হামলা চালিয়েছে। আমি যদি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে না থাকতাম, তা হলে এতক্ষণ মর্গে থাকতাম। পুলিশের সামনে এই হামলা হয়েছে।"
শুধু তাই নয়, শুভেন্দুর দাবি, "এই হামলার পিছনে আছে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের এনে হামলা চালানো হয়েছে। কাঠের মোটা ডাণ্ডা, পাথর— সব ব্যবহার করা হয়েছে। মেরে ফেলতেই কনভয়ে অ্যাটাক করা হয়েছে।"
পরে এসপি অফিসের বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে বিরোধী দলনেতা বলেন, "মহাদেব রক্ষা করেছেন। মমতাকে হারিয়েছি, তাই ওদের অত রাগ।"
হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, গাড়ির জানলার কাচে ২০ বার মোটা বাঁশ দিয়ে মেরেছে। তাতে ভাঙতে না পেরে গাড়ির পিছনের কাচ পাথর দিয়ে ভেঙেছে।
শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, "আমি সোমবার রাতেই স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম যে কোচবিহারে আসছি। তাও কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং পুলিশের সামনেই পরিকল্পিত হামলা হয়েছে। আমি আগেই জানতাম ওরা এটা ঘটাবে।"
তিনি স্পষ্ট করে জানান, "কোচবিহারের এসপি-কে এর জবাব দিতে হবে। আমি যা করার করব। রাজ্য সরকারের এই প্রশাসনিক নিস্ক্রিয়তা মেনে নেওয়া যায় না।"
এদিকে, এই ঘটনা ঘিরে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের তরফে রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ অবশ্য শুভেন্দুর আনা হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। উদয়ন বলেন, "হামলার অভিযোগ মিথ্যে। শুভেন্দু এবং তাঁর দল যেভাবে বাংলা ভাষা ও বাঙালিকে অপমান করছেন তারই প্রতিবাদে এদিন কোচবিহারের মোড়ে মোড়ে কালো পতাকা নিয়ে ধিক্কার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখান থেকে জয় বাংলা স্লোগান জানিয়ে ওকে ধিক্কার জানানো হয়। সেটাকেই অতিরঞ্জিত করে শুভেন্দু হামলার মিথ্যে নাটক করছেন।" তবে বাংলা ও বাঙালিকে আক্রমণ করলে এরকমই জবাব মিলবে বলেও জানান উদয়ন।
তবে এই হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা বা রাজ্য পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।
বিজেপি সূত্রে খবর, এই ঘটনায় রাজ্যের থেকে রিপোর্ট চেয়েছে কেন্দ্র।