ফের যান চলাচল বন্ধ থাকছে বিদ্যাসাগর সেতুতে। কবে, কখন?

বিদ্যাসাগর সেতু
শেষ আপডেট: 16 January 2026 20:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিতীয় হুগলি সেতু (2nd Hooghly Bridge) ব্যবহারকারীদের জন্য ফের দুঃসংবাদ। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ (Sunday) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে এটি অর্থাৎ বিদ্যাসাগর সেতু (Vidyasagar Setu)। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের (Kolkata Traffic Police) জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে সেতুর উপর দিয়ে সবরকম যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের (Hooghly River Bridge Commission) তরফে জানানো হয়েছে, এই বন্ধের সময় সেতুর স্টে কেবল (Stay Cable), হোল্ডিং ডাউন কেবল (Holding Down Cable) ও বিয়ারিং (Bearing) বদলানোর কাজ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই এই সংস্কার চলছে। ফলে ফের রবিবার বন্ধের খবরে ক্ষোভ আরও বাড়ল নিত্যযাত্রীদের মধ্যে।
সকলের প্রশ্ন একটাই, আর কতদিন চলবে এই ভোগান্তি? এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যাসাগর সেতুর সংস্কারের কাজ চলছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে শুরু হয়েছিল প্রাথমিক কাজ। ২০২৪ সালের শুরু থেকে তা পুরোদমে শুরু হয়। তখন বলা হয়েছিল, ছ’মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। কিন্তু বছর গড়ালেও কাজ এগোচ্ছে শম্বুক গতিতে, এমনটাই অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
প্রতি রবিবার সেতু বন্ধ রাখায় সমস্যায় পড়ছেন বহু মানুষ। যাত্রীদের একাংশের বক্তব্য, রবিবার মানেই যে কাজ নেই, এমন নয়। অনেকেই বেসরকারি চাকরি করেন, কেউ কেউ সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজে বের হন। কারও চিকিৎসার প্রয়োজন, কারও বাজার বা ব্যক্তিগত জরুরি কাজ। সেতু বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে হাওড়া ব্রিজ (Howrah Bridge) বা অন্য দীর্ঘ ঘুরপথ ধরতে হচ্ছে।
এক নিত্যযাত্রীর কথায়, “রবিবারেও কাজে বের হতে হয়। বহুবার সময়মতো পৌঁছতে পারিনি। পুরো দিনটাই নষ্ট হয়ে যায়।” তাঁদের দাবি, কাজ যতই জরুরি হোক, দু’টি লেন একসঙ্গে বন্ধ না করে অন্তত একটি লেন খোলা রাখা যেতে পারে। তাহলে এই দুর্ভোগ হয় না।
অন্যদিকে গাড়িচালকদেরও সমস্যার শেষ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালকের কথায়, “প্রতি রবিবার ব্রিজ বন্ধ। অনেকটা ঘুরে যাত্রী পৌঁছে দিতে হয়। কিন্তু ভাড়া একটু বাড়লেই যাত্রীরা ঝগড়া করেন। বাড়তি খরচ কে দেবে?”
ইতিহাস বলছে, ১৯৭২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) দ্বিতীয় হুগলি সেতুর শিলান্যাস করেন। ১৯৭৯ সালে শুরু হয় নির্মাণ, ১৯৯২ সালে উদ্বোধন। ২০১৩ সালে রাজ্য সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিংস (Writers’ Buildings) থেকে নবান্নে (Nabanna) সরানোর পর এই সেতুর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
জার্মান সংস্থা শ্লায়েশ বার্জারম্যান পার্টনার (Schlaich Bergermann Partner) সেতুটির নকশা তৈরি করেছিল। ১২১টি কেবলের ফ্যান অ্যারেঞ্জমেন্টের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে বিদ্যাসাগর সেতু। কয়েকটি কেবলের অবস্থা খারাপ হওয়ায় সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে এই কাজের খরচ ধরা হয়েছিল ৫৫ কোটি টাকা।
কিন্তু যাত্রীদের প্রশ্ন, এই সংস্কারের দুর্ভোগের শেষ কবে?