একাধিক লাইনের ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে প্রায় সব ট্রেনকে মিডল লাইনের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে এই সেকশনে যাত্রী চাপ বাড়ছে এবং লাইনের ধারণক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে।

কোলাঘাট ব্রিজ সংস্করণ
শেষ আপডেট: 27 December 2025 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ব্যস্ততম টাটানগর-হাওড়া রুটের যাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বহুদিন ধরেই এই রুটে ট্রেন দেরি, লাইনে ব্যস্ততা এবং ধীরগতির মূল কারণ ছিল রূপনারায়ণ নদীর উপর ১২৫ বছরের পুরনো কোলাঘাট রেল সেতু (Kolaghat Rail Bridge)। এবার সেই সেতুকেই নতুন রূপে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। প্রায় ৪৩২ কোটি টাকার এই মেগাপ্রকল্প শেষ হলে পুরো রুটেই ট্রেন চলাচল অনেক দ্রুত ও ঝামেলাহীন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুরনো সেতুর জর্জর দশা
হাওড়া–খড়গপুর সেকশনের দেউলটি ও কোলাঘাট স্টেশনের মাঝে অবস্থিত এই সেতুটি ১৯০০ সালে চালু হয় (125-year-old bridge replacement)। বছরের পর বছর ধরে ব্যবহারের চাপ, জলের ক্ষয় আর পুরনো স্টিল গার্ডারের দুর্বলতার কারণে সেতুটিকে আগেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। রেলওয়ে বাধ্য হয় ডাউন মেইন লাইনে মালগাড়ি ও বেশিরভাগ দূরপাল্লার ট্রেন বন্ধ করতে। যাত্রীবাহী কিছু ট্রেনকে শুধু ঘণ্টায় ৩০ কিমি গতিতে চালানোর অনুমতি ছিল। এতে বারবার দেরি, বাতিল এবং ভিড়ের সমস্যায় পড়ছিলেন যাত্রীরা।
একাধিক লাইনের ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে প্রায় সব ট্রেনকে মিডল লাইনের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে এই সেকশনে যাত্রী চাপ বাড়ছে এবং লাইনের ধারণক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে।
৪৩২ কোটি টাকায় আসছে অত্যাধুনিক নতুন সেতু
রেল এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন সেতু তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে এই আধুনিক সেতুটি, যা আগামী ১০০ বছর ধরে নিরাপদে ট্রেন চলাচল সামলাতে পারবে। সেতুতে ব্যবহার করা হবে কম্পোজিট স্ট্রাকচার এবং ওপেন ওয়েব গার্ডারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি, যা গতি ও সুরক্ষা দুটোই বাড়াবে।
এর পাশাপাশি কোলাঘাট স্টেশনও বদলে যাবে সম্পূর্ণ। নতুন অ্যালাইনমেন্টে উঁচু প্ল্যাটফর্ম, উন্নত যাত্রী সুবিধা এবং তিনটি লাইনে একসঙ্গে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে (Howrah Kharagpur rail route)। কর্মকর্তাদের দাবি, তিনটি লাইন সক্রিয় হলে এই রুটের ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং সময়ানুবর্তিতা অনেক উন্নত হবে।
কবে শেষ হবে কাজ?
রেলওয়ে জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শেষের মধ্যে নতুন ব্রিজ তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হলে টাটানগর-হাওড়া রুটে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে, ভ্রমণের সময় কমবে এবং যাত্রীরা আরও নিরাপদে যাত্রা করতে পারবে, আরামদায়ক ও দ্রুত পরিষেবা।
সর্বোপরি, পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে এই পরিবর্তন যাত্রীদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি পুরো রেল নেটওয়ার্ককেই আরও শক্তিশালী করবে।