তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য , “মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময়ে কোনও ঔদ্ধত্য নয়। ব্যবহারেই মানুষের পরিচয়। আপনাদের আচরণে যেন মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ও পরিশ্রমকে দেখতে পান।”
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 26 December 2025 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই আরও তীব্র গতিতে জন-সংযোগ বাড়াতে মাঠে নামতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এসআইআর-ঘিরে চলতি রাজনৈতিক আবহে সংগঠনের প্রচারকাজ কতটা সুষ্ঠুভাবে এগোচ্ছে, তার উপর কড়া নজরদারির নির্দেশ দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবারের ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে অভিষেক জানান, প্রতি বিধানসভা এলাকায় থাকছে তিনটি বিশেষ তদারকি-টিম। বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা থাকবেন প্রতিটি দলে। প্রতিটি টিমে থাকবেন ৫–১০ জন সদস্য। উদ্দেশ্য একটাই, প্রচারের কোনও খামতি না-থাকে।
নেতা-কর্মীদের আচরণ নিয়েও এদিন বার্তা দেন অভিষেক। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য , “মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময়ে কোনও ঔদ্ধত্য নয়। ব্যবহারেই মানুষের পরিচয়। আপনাদের আচরণে যেন মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ও পরিশ্রমকে দেখতে পান।”
অভিষেক জানান, ১ জানুয়ারি থেকেই শুরু হবে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার। প্রায় ১৮০০ জন প্রভাবশালী নাগরিক বা ইনফ্লুয়েন্সারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২০০ জনের কাছে যাবেন মন্ত্রী ও সাংসদরা, বাকিদের কাছে পৌঁছবেন বিধায়ক ও জেলা নেতৃত্ব। রাজ্যজুড়ে গঠিত হয়েছে ৩৮টি টিম। এক মাসের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য।
এই প্রচারকিটে থাকবে, উন্নয়নের পাঁচালি, ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড, উত্তরীয়, এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত চিঠি।
ভোটের আগে দু’দিকেই কাজ চলবে, জানিয়ে অভিষেক বলেন,“দেড়–দু’মাস একদিকে এসআইআর-র কাজ, অন্যদিকে জেলা ভিত্তিক কো-অর্ডিনেটররা নজর রাখবেন এই জনসংযোগ কর্মসূচির উপর। আমি নিজে ২ জানুয়ারি থেকে কর্মসূচি শুরু করছি।”
রাজনৈতিক বিভাজনের কথা ভুলে গিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছনোর আহ্বানও জানান তিনি। বলেন, “কেন্দ্রের কাছে আমাদের দুই লক্ষ কোটি টাকা পাওনা। সেই টাকা না-পেয়েও লক্ষ্মীর ভান্ডার, রাস্তা, আবাস — সব করেছি। অগ্রগতির রথকে বিজেপি আটকাতে পারেনি।”
দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বের কাছে নয়, বাংলার মানুষের কাছেই জবাবদিহি, সাফ জানিয়ে অভিষেকের সংযোজন, “২০২১-এ রাজনৈতিক ভাবে ব্যর্থ হওয়ার পরও ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ। আদালত বলার পরও তা দেওয়া হয়নি। এই কথাই সবাইকে বলতে হবে।”
ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর হামলার ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “বাংলা ভাষা ও পরিচয়কে যারা অসম্মান করে, তাদের বিরুদ্ধে মেরুদণ্ড সোজা রেখে লড়তে হবে।”
এসআইআর শুনানির প্রসঙ্গে সতর্কতা জারি করে নির্দেশ , “কারও নাম বাদ গেলে সরাসরি শুনানিতে নিয়ে যাবেন। যোগ্য ভোটারের একটি নামও যেন বাদ না পড়ে।”
শেষে সংগঠনের প্রতি কঠোর বার্তা, “এটা যুদ্ধের সময়। এক মিনিট শিথিল হলেই বিরোধীরা আক্রমণ করবে। তাই কোনও ঢিলেমি নয়।”