আত্মবিশ্বাসী সুরে কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, “আক্রমণ হোক, চাপ আসুক — মা-মাটি-মানুষের সরকারই জিতবে।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 26 December 2025 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর ঘুরলেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। এসআইআরকে (SIR) ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ চড়ছে। এমন আবহে ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে দলের নেতা–কর্মীদের সামনে আগামী দিনের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর ইঙ্গিত, ২০২৬-ই হবে বৃহত্তর লড়াইয়ের প্রস্তুতিপর্ব, “২০২৯-এর ভীত গড়ে উঠবে ২০২৬-এ।”
সম্প্রতি বাংলায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। তাঁর মন্তব্য টেনে অভিষেকের কটাক্ষ, “সভা থেকে বলে গেছেন, 'বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই'। এই চার শব্দের মধ্যে অনেক ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে। বাঁচাতে চাই মানে, মারতে চাই। আমাদের বলতে হবে, 'বাঁচতে চাই, তাই বিজেপি বাই'। তাঁর দাবি, মোদীর কথার মধ্যেই ছিল ‘আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি’— “বিজেপিতে যোগ দাও, তা না হলে রেহাই নেই।”
এরপরই আত্মবিশ্বাসী সুরে কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, “আক্রমণ হোক, চাপ আসুক — মা-মাটি-মানুষের সরকারই জিতবে।” বৈঠকের মঞ্চেই তিনি কার্যত ছাব্বিশের ভোটের স্লোগান বেঁধে দেন, “মানবে না হার, মা-মাটি-মানুষের সরকার আবার।”
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাড়ে চোদ্দ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান, ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ —কেই হাতিয়ার করে রাজ্য জুড়ে পৌঁছে দিতে হবে সরকারের কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব। ২০২১-এ ‘বঙ্গধ্বনি যাত্রা’র মাধ্যমে যে ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ হয়েছিল, এ বার তার বিস্তৃত রূপ। অভিষেকের দাবি, “দেশে ক্ষমতায় থেকেও নিয়মিত ভাবে নিজের কাজের হিসেব দেয়, তৃণমূলই একমাত্র দল।”
বৈঠকে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দু’লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে। বঞ্চনা সত্ত্বেও বাংলায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিজেপি তো এখনও গতবারের কাজের রিপোর্ট কার্ডই প্রকাশ করতে পারেনি।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জন্ম থেকে বর্তমান, সাধারণ মানুষের জন্য যে সব প্রকল্প ও সুবিধা চালু রয়েছে, তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।
অভিষেকের কথায়, ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ শুধু খতিয়ান নয়, ২০২৬-র আগে গোটা বাংলায় রাজনৈতিক সুর বেঁধে দেওয়ার বার্তাও।