সংগঠনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় উপেক্ষিত হচ্ছে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (ERO) বাধ্যতামূলক ভূমিকা।

মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 26 December 2025 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে চলতি বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা system-driven পদ্ধতিতে বাদ পড়ছে, এই অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে (Manoj Agarwal) চিঠি দিল WBCS (Executive) Officers’ Association। সংগঠনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় উপেক্ষিত হচ্ছে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (ERO) বাধ্যতামূলক ভূমিকা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের দিনই দেখা যাচ্ছে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে মৃত্যু, স্থানান্তর, অনুপস্থিতি বা সদৃশ এন্ট্রির মতো কারণ দেখিয়ে, অথচ সংশ্লিষ্ট ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম ফেরত না এলেও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
WBCS আধিকারিকদের বক্তব্য, Representation of the People Act, 1950 এবং Electoral Registration of Electors Rules, 1960 অনুযায়ী কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে আইন অনুযায়ী, কেউ আর সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে ‘ordinary resident’ না থাকলে বা ভোটার হওয়ার যোগ্যতা হারালে তবেই নাম বাদ দেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ERO-কে জুডিশিয়াল প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু বর্তমান ক্ষেত্রে সেই আইনি প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ।
সংগঠনের আশঙ্কা, এইভাবে বৃহৎ পরিসরে ‘সিস্টেম-চালিত’ ছাঁটাই হলে, তার দায় শেষ পর্যন্ত পড়বে ERO-দের ঘাড়েই। কারণ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় ERO-দের স্বাক্ষর ও সিলেই। অথচ নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁদের কার্যত কোনও ভূমিকা থাকছে না। সাধারণ মানুষ এই বিষয়টি না বুঝে সরাসরি ERO-কেই দায়ী করবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বহু ভোটার এনুমারেশন প্রক্রিয়ার সময় অনুপস্থিত থাকলেও তাঁরা আইনত যোগ্য হতে পারেন। কিন্তু সেই সুযোগ বিবেচনা না করেই নাম বাদ দেওয়া হলে তা ভোটারদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন জানিয়েছে WBCS (Executive) Officers’ Association, যাতে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয় এবং ERO-রা তাঁদের আইনি ক্ষমতা ও দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করতে পারেন। সংগঠনের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের অধীনে থেকেও আইনসম্মত প্রক্রিয়া বজায় রাখাই গণতন্ত্রের স্বার্থে অপরিহার্য।