শনিবার সকাল থেকে দেখা যায়, পুলিশের ব্যবহৃত ড্রোনগুলো এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে, যাতে ভিড়ের গতিবিধি এবং কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

নিজস্ব চিত্র
শেষ আপডেট: 9 August 2025 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব বদলে বদলে যায়। বদলে যায় ভাবনা। নবান্ন অভিযান (Nabanna Abhijan) রুখে দিতে প্রশাসনের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার ভাবনা ও কৌশলও যে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে শনিবার দেখল কলকাতা (Kolkata)।
এক বছর আগে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar Protest) চিকিৎসক ছাত্রী খুনের বিচার দাবিতে নাগরিক সমাজ ও ছাত্র সংগঠনগুলো আজ, ৯ অগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে। তবে, এই আন্দোলনকে ঠেকাতে প্রশাসন একেবারে প্রস্তুত। এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন ও শক্তিশালী, যা এক কথায় ‘দুর্গে’ পরিণত করেছে নবান্নকে।

এবারের ব্যারিকেড তৈরিতে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট, লোহার বিম এবং মোটা লোহার রড ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে এগুলো ভাঙা, বাঁকানো বা সরানো প্রায় অসম্ভব। নবান্নের আশপাশে এমন কঠোর নিরাপত্তা বলয় আগে কখনও দেখা যায়নি। বিশেষ করে হাওড়া ময়দান, ফোরশোর রোড, সাতরাগাছি এবং চাঁদনীঘাটে রাস্তার ওপর একাধিক লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যা আন্দোলনকারীদের পথ আটকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী।
তার কারণও রয়েছে। এর আগে একবার বিজেপির ডাকা নবান্ন অভিযানের সময়ে গলিপথ ধরে আন্দোলনকারীরা প্রায় নবান্নের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছিলেন। সে সময়ে প্রশাসনের তরফে ফোন করা হয়েছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। নইলে বিপত্তি ঘটে যেতে পারত।

শনিবার সকাল থেকে দেখা যায়, পুলিশের ব্যবহৃত ড্রোনগুলো এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে, যাতে ভিড়ের গতিবিধি এবং কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি, জলকামান ও টিয়ার গ্যাসের সেলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়।
এছাড়া, বিদ্যাসাগর সেতু থেকে হাওড়া সেতু পর্যন্ত এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও পুলিশের কড়া পাহারা রয়েছে। বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে রাণী রাসমণী অ্যাভিনিউ, খিদিরপুর রোড, তারাতলা রোড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। এই এলাকায় পুলিশি তল্লাশি আরও কঠোর করা হয়েছে, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য মহিলা পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
যদিও নবান্ন অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বিচারপ্রাপ্তির দাবিতে সশস্ত্র প্রতিরোধ, তবুও প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার কারণে মিছিলের পথ আটকে গেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এমন কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মাঝেও আন্দোলনকারীরা কি তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন?