২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে কলেজের চতুর্থ তলার সেমিনার হলে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় অভয়ার। ময়নাতদন্তে উঠে আসে— ধর্ষণের পর খুন। আন্দোলনকারীদের দাবি, মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় ছাড়া বাকিরা এখনও অধরা।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 9 August 2025 07:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের (RG Kar Case) এক বছর পেরোলেও ন্যায়বিচার মেলেনি— এই অভিযোগে ফের পথে নামলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। শুক্রবার রাতভর শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে মশাল হাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি দেন নির্যাতিতার মা-বাবা।
মঞ্চে উঠে অভয়ার মা বলেন, “আজও প্রতি রাতে মেয়ের কান্না শুনি। যতই ব্যারিকেড থাক, আগামিকাল (শনিবার) নবান্ন অভিযান (Nabanna Abhijan) হবেই। আমাদের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানাই।”
নির্যাতিতার বাবার আক্ষেপ, “এক বছর হয়ে গেল, তবু সুবিচার নেই। সিবিআই উত্তর দিতে পারেনি, প্রশাসনও সহযোগিতা করেনি।” তাঁর অভিযোগ, পতাকাবিহীন এই নবান্ন অভিযানকে ভয় পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাই পুলিশি বাধা তৈরি হচ্ছে। তৃণমূল বাদে সকলের প্রতি তাঁর আহ্বান— অভিযানে যোগ দিন।
২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে কলেজের চতুর্থ তলার সেমিনার হলে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় অভয়ার। ময়নাতদন্তে উঠে আসে— ধর্ষণের পর খুন। আন্দোলনকারীদের দাবি, মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় ছাড়া বাকিরা এখনও অধরা।
শনিবার রাতে কলেজ স্কোয়ার থেকে মশাল মিছিলের ডাক দেয় পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট (WBJDF)। স্লোগানে গর্জে উঠছে— “তিলোত্তমার বিচার চাই”, “নিরাপত্তাহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানি না, মানব না।”
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আন্দোলন— এই অভিযোগকে স্পষ্ট ভাষায় উড়িয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার মা, “মেয়ের বিভাগের সহপাঠীরা আন্দোলনে নেই কেন?” তাঁর অঙ্গীকার, মেয়ের নাম যেন ভুলে না যায়, তার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।
রাজনৈতিক তরজাও চড়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, “নবান্ন অভিযানে কারও গায়ে পুলিশ হাত তুললে, গোটা রাজ্য ৭২ ঘণ্টা স্তব্ধ হবে।” পাল্টা বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটি বিজেপি পরিচালিত কর্মসূচি।”
পুলিশের দাবি, নবান্ন অভিযানের জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও একাধিক ব্যারিকেড বসানো হয়েছে নবান্নের আশপাশে।