Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ ৩৩ বছর পর মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন! ওয়াশিংটনের বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির সমাধান?ইউরোপের আদালতে ‘গোপনীয়তা’ কবচ পেলেন নীরব মোদী, জটিল হচ্ছে পলাতক ব্যবসায়ীর প্রত্যর্পণ-লড়াইইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিত

RG Kar: 'ধামাচাপা নয়, বিচার চাই'— শ্যামবাজারের মশালে জ্বলছে এক বছরের ক্ষোভ

সব মিলিয়ে, ৮ অগস্টের এই রাত যেন শুধু একটা ঘটনার বার্ষিকী নয়— এটা এক অসমাপ্ত বিচারের বিরুদ্ধে সমবেত চিৎকার, এক বছরের জমে ওঠা ক্ষোভের মশাল। 

RG Kar: 'ধামাচাপা নয়, বিচার চাই'— শ্যামবাজারের মশালে জ্বলছে এক বছরের ক্ষোভ

নিজস্ব চিত্র।

সুমন বটব্যাল

শেষ আপডেট: 9 August 2025 00:57

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত যত গড়াচ্ছে, ততই জমাট বাঁধছে শ্যামবাজারের (Shyambazar) পাঁচ মাথার মোড়ে মানুষের ভিড়। হাতে মশাল, গলায় প্ল্যাকার্ড, চোখে জেগে থাকা ক্ষোভ আর দুঃখ— এক বছরের অপেক্ষা আর ন্যায়বিচারের আশাভঙ্গই যেন এ রাতের প্রধান প্রেরণা (Justice for RG Kar)!

ঠিক এক বছর আগে, ২০২৪ সালের ৮ অগস্টের রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar Case) চার তলার সেমিনার হলে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় এক তরুণী চিকিৎসক ছাত্রীর দেহ। ময়নাতদন্তে উঠে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য— ধর্ষণের পর খুন। সেই রাতের পর কেটে গিয়েছে বারোটি মাস। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, 'সঞ্জয় রায় ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা এখনও অধরা, ফলে বিচারের কোন‌ও স্পষ্ট আলোকপাত হয়নি এখনও'।

এই ন্যায়বিচারের দাবিতেই শনিবার রাতে কলেজ স্কোয়ার থেকে মশাল মিছিল শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট (WBJDF)। শেষ গন্তব্য— শ্যামবাজার মোড়। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা গলা মেলাচ্ছেন প্রতিবাদের স্লোগানে— "তিলোত্তমার বিচার চাই", "ধামাচাপা নয়, বিচার হোক", "নিরাপত্তাহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানি না, মানব না!"

শুধু চিকিৎসকরাই নন, সেই মিছিলে পা মিলিয়েছেন ছাত্র, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সবার মুখে এক রা, "আর চুপ করে থাকা নয়। ন্যায়ের দাবিতে শহরকে জাগতেই হবে।"

চিকিৎসক অনিকেত মাহাত বলেন, “এক বছর কেটে গিয়েছে, সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, আজও পরিষ্কার নয়। তদন্ত চলছে— এই কথা বলে আর কতদিন চালানো যাবে?”

তার সহকর্মী আসফাকুল্লা নাইয়ারের স্পষ্ট বক্তব্য, “এই লড়াই কোনও রাজনৈতিক দলের নয়। এটা তিলোত্তমার, এটা সমাজের, এটা আমাদের সকলের। খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদে একসঙ্গে রাস্তায় না নামলে, আগামী প্রজন্মও সুরক্ষিত থাকবে না।”

রাতভর চলবে এই অবস্থান কর্মসূচি। রয়েছে প্রতিবাদী গান, আলোচনাসভা এবং রবিবার সকাল থেকে রাখীবন্ধন কর্মসূচির প্রস্তুতিও। আন্দোলনকারীরা জানাচ্ছেন, "তাঁদের দাবি যতদিন পূরণ না হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন চলবেই"।

সব মিলিয়ে, ৮ অগস্টের এই রাত যেন শুধু একটা ঘটনার বার্ষিকী নয়— এটা এক অসমাপ্ত বিচারের বিরুদ্ধে সমবেত চিৎকার, এক বছরের জমে ওঠা ক্ষোভের মশাল। অন্যদিকে শ্যামবাজার মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ।

এদিকে, আগামীকাল নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ডাকা হয়েছে নবান্ন অভিযান। তাতে উপস্থিত থাকবেন নিহত চিকিৎসকের মা-বাবাও। এদিন রাতে অভয়ার বাবা বলেন, "আগামীকাল পতাকাবিহীন নবান্ন অভিযানকে ভয় পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই পুলিশ দিয়ে অভিযান ঠেকানোর চেষ্টা হচ্ছে।" তৃণমূল বাদে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই অভিযানে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, “নবান্ন অভিযানে কারও গায়ে পুলিশ হাত তুললে, গোটা রাজ্য ৭২ ঘণ্টার জন্য স্তব্ধ করে দেওয়া হবে।”

পাল্টা হিসেবে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই আন্দোলনের (নবান্ন অভিযানের) পিছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। বিজেপির পরিচালিত এক কর্মসূচি।”

এদিকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে কোনও সংস্থা বা সংগঠন নবান্ন অভিযানের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেনি। তবু পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি রয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই নবান্নের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ও ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


```