সঞ্জয় রায় ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা এখনও অধরা'--এই অভিযোগে বিচারের দাবিতে ফের রাজপথে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট (WBJDF)।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 22:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা! ঠিক এক বছর আগে এই ৮ অগস্টের মধ্যরাতেই আরজি কর হাসপাতালের (RG Kar Case) চারতলার সেমিনার হলে ধর্ষণ খুনের শিকার হয়েছিলেন ডাক্তারি চিকিৎসক ছাত্রী। দেখতে দেখতে বছর পার।
'সঞ্জয় রায় ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা এখনও অধরা'--এই অভিযোগে বিচারের দাবিতে ফের রাজপথে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট (WBJDF)।
পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টায় কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয় জুনিয়র ডাক্তারদের মশাল মিছিল। মিছিল শেষ হবে শ্যামবাজারে। রাত পেরিয়ে ভোর চারটে পর্যন্ত চলবে অবস্থান কর্মসূচি। ইতিমধ্যে তাতে অংশ নিয়েছেন সমাজের বিভিন্নস্তরের মানুষজন।
আন্দোলনকারীদের আহ্বান— “খুন, ধর্ষণ, রাহাজানির বিরুদ্ধে পথে নামুন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে, বিচার আর নিরাপত্তার দাবিতে এক হোন সমাজের সব স্তরের মানুষ।” তাঁদের প্রশ্ন— “এক বছর কেটে গেল, সেই রাতে আসলে কী হয়েছিল, আজও জানা গেল না! এই নীরবতা কি দায় এড়ানো নয়?”
সংগঠনের তরফে শনিবার সকালে রাখী বন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ, চিকিৎসক সমাজ ও নাগরিকদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে আরজি করের ঘটনায় বিচারহীনতার অভিযোগে আগামিকাল শনিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে নাগরিক সমাজ। তাতে উপস্থিত থাকবেন নিহত চিকিৎসকের মা-বাবাও। যদিও ওই আন্দোলনে বিজেপির ছায়া দেখছেন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। যে কারণে ওই কর্মসূচি থেকে তাঁরা নিজেদের আলাদা রাখছেন। আগামিকাল নবান্ন অভিযানে তাঁরা শামিল না হলেও অভয়ার বিচারের দাবিতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছেন তাঁরা।
যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “আমরা চাই এই আন্দোলনে কোনও রাজনৈতিক রং না লাগুক। আমাদের সমস্ত কর্মীরা থাকবেন, তবে নেতৃত্বে থাকবেন তিলোত্তমার বাবা।”
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এদিন বলেন, “তিলোত্তমার বাবা-মা যে পথে হাঁটবেন, আমরাও হাঁটব। ওনারা যদি বসেন, আমরাও বসব। নেতৃত্ব দেবেন ওনারাই।”
তবে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কটাক্ষ করে বলেন, “এই কর্মসূচির পিছনে একটা সুস্পষ্ট এজেন্ডা রয়েছে। বিজেপির দ্বারাই তা পরিচালিত হচ্ছে। এসব করে কোনও লাভ হবে না। সরকার ইতিমধ্যেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।”
এদিকে কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে কোনও সংস্থা বা সংগঠন নবান্ন অভিযানের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেনি। তবু পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি রয়েছে লালবাজার। ইতিমধ্যেই নবান্নের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ও ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এদিন রাতের মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে শহরে।