আদালতে শুনানির সময় তীব্র অস্বস্তির মুখে পড়েন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 21:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গুর মামলায় টাটা গোষ্ঠীকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে রাজ্যকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court in Singur case)। শুক্রবার বিচারপতি পি নরসিংহ ও বিচারপতি অতুল এস চান্দুরকরের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকছে। অর্থাৎ, রাজ্যকে টাটা মোটরসকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭৬৬ কোটি টাকা দিতে হবে (State has to pay 766 crore compensati)।
এদিন আদালতে শুনানির সময় তীব্র অস্বস্তির মুখে পড়েন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। ট্রাইব্যুনালের এক সদস্যের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে টাটা গোষ্ঠীর আমন্ত্রণে ১৫ বার নাগপুরে যেতে দেখা গিয়েছে। যদিও তিনি আরবিট্রেশন পর্বের পরে আমন্ত্রণ পেয়েও যাননি। এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বেঞ্চ। কড়া সুরে জানানো হয়, যদি এই অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তবে রাজ্যকে বড়সড় জরিমানা করা হবে।
অবশেষে, নিজের জমা দেওয়া নথিপত্র ফেরত নিতে চান সিব্বল। তখনই বেঞ্চের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। একপ্রকার গর্জে ওঠে আদালত: "বিশ্বাসযোগ্যতা ও আইনি নৈতিকতার প্রশ্নে এমন পদক্ষেপ কাম্য নয়।"
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৬ সালে, যখন একলাখি গাড়ির কারখানার জন্য তৎকালীন বাম সরকার সিঙ্গুরে কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে টাটা গোষ্ঠীকে জমি দেয়। জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনে নামে তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। বহু চাষি, সমাজকর্মী এবং দলের কর্মীরা সেই আন্দোলনে সামিল হন। সেই আন্দোলনই ২০১১-র পরিবর্তনের ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে দাঁড়ায়। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়া হয়।
চাষিরা জমি ফেরত পেলেও, কারখানা গড়তে না পেরে টাটা গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে তারা। বিষয়টি গড়ায় আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে। সেখানেই রাজ্যের বিরুদ্ধে রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য, কিন্তু শুক্রবার তা খারিজ হয়ে যায়।
এই রায় নিয়ে রাজনীতির আঁচ পড়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বিরোধীরা বলছে, “আন্দোলনের রাজনীতি করে রাজ্যের মুখ পুড়ল, আর মোটা টাকাও দিতে হবে।” তবে শাসকদলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।