এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “এই এসআইআর আসলে স্যার! বিজেপি নেতাদের কথা মতো চলা। কমিশনের একাংশ সেটাই করছে। এই কারচুপি আমরা বরদাস্ত করব না।"

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের কায়দায় বাংলায় তাড়াহুড়ো করে নিবিড় ভোটার সংশোধনীর (SIR) কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
অভিষেকের কথায়, "এসআইআরের নাম করে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির কথা বলে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া আমরা বরদাস্ত করব না। বিহারে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ৬৫ লক্ষ লোকের নাম লিস্ট থেকে বাদ গেছে। বাংলাতেও দু বছরের কাজকে এক দুমাসে শেষ করতে চাইছে কমিশন। আর এটা হলে তো গরিব মানুষের নাম সবার আগে বাদ যাবে। সেটা আমরা করতে দেব না।"
এ ব্যাপারে কমিশন গা জোয়ারি করলে লাখো মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অভিষেক। সাংসদের কথায়, “এভাবে বাংলার একটা প্রকৃত নামও যদি বাদ যায়, তাহলে লক্ষ মানুষকে নিয়ে কমিশনের অফিস ঘেরাও করব।”
এসআইআর নিয়ে কমিশনের তাড়াহুড়ো প্রসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ব্যাখ্যা, “২০১৪-য় বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলায় টেস্ট, ট্রায়াল চালিয়ে দেখেছে। প্রতিবার হেরেছে। তাই এবারে SIR এর কথা বলে সাধারণ গরিব মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ছক কষছে।”
প্রশ্ন তুলেছেন, "কেন্দ্র কিছু লুকোতে চাইছে, সে কারণে এসআইআর নিয়ে সরকার আলোচনা চাইছে না।" এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার স্পিকারের সঙ্গে তিনি দেখাও করেছেন বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
অভিষেকের কথায়, এসআইআরের কথা বলে যেভাবে বিজেপির কথায় এবং ইশারায় নির্বাচন কমিশন কাজ করছে, তাতে ইন্ডিয়া জোটের সকলে নিন্দা করেছে। কীভাবে কারচুপি করেছে, বৈঠকে রাহুল গান্ধী সেটাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন বলে জানান অভিষেক। এ ব্যাপারে ১১ অগস্ট বিরোধীরা একত্রিতভাবে কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চলেছে।
শুধু SIR-ই নয়, কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিতে গিয়ে ১০০ দিনের কাজ, জল জীবন মিশনের বকেয়া টাকা বন্ধ করে রাখা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, “কোর্ট বলেছে ১ অগস্ট থেকে ১০০ দিনের টাকা দিতে হবে। আজ ৮ অগস্ট, এখনও এক টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। জল জীবন মিশনের আড়াই হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।”
বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে— এই অভিযোগও তুলেছেন অভিষেক। বলেন, “যেভাবে বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। যারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের সঙ্গে এক পা এগিয়েছে, আমরাও তাঁদের পাশে আছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য বাংলা, যে আমাদের পাশে থাকবে, আমরাও তার পাশে থাকব। বাংলা ও বাঙালির স্বার্থেই এই লড়াই।”