ক্ষুব্ধ স্পিকার এও বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে বিরোধীদের বাদ দিতে চাই না, চাই ওরা বিধানসভার আইন মেনে চলুন, কিন্তু বারবার এরকম আচরণ করলে আমরা বাধ্য হব আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে।"
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 June 2025 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় (West Bengal Legislative Assembly) ফের রাজনৈতিক তরজা। বৃহস্পতিবার দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল সেলস ট্যাক্স অ্যামেন্ডমেন্ট বিল (Sales Tax Bill Debate) নিয়ে আলোচনার মাঝপথে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করলেন বিজেপি বিধায়করা। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই ঘটল নজিরবিহীন এক সিদ্ধান্ত। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হল।
পরে এ ব্যাপারে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "ওরা কী মনে করেছে জানি না, তবে বিরোধীদের এমন আচরম অতীতে কখনও দেখিনি।
তবে ওরা ক্রমাগত স্পিকারের চেয়ারকে অসম্মান করে চলেছেন।" ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্পিকার এও বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে বিরোধীদের বাদ দিতে চাই না, চাই ওরা বিধানসভার আইন মেনে চলুন, কিন্তু বারবার এরকম আচরণ করলে আমরা বাধ্য হব আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে।"
ঘটনার সূত্রপাত, এদিন দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল সেলস ট্যাক্স অ্যামেন্ডমেন্ট বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিজেপির অশোক লাহিড়ী, অম্বিকা রায় সহ একাধিক বিধায়ক। লাহিড়ী বলেন, ‘‘আমাদের বক্তব্য হয়ে গেলে সরকারপক্ষ কী বলছে, সেটাও শুনব।’’ কিন্তু তাঁর কথা শেষ হতেই শঙ্কর ঘোষের নেতৃত্বে একে একে উঠে যেতে থাকেন বিজেপি বিধায়করা। যদিও অশোক লাহিড়ী বসেছিলেন। পরে ট্রেজারী বেঞ্জ থেকে মন্ত্রীরা হই হই করতে থাকে। এরপর শঙ্কর ঘোষ কক্ষে আবার ঢুকে অশোক লাহিড়ীকে নিয়ে বেরিয়ে যান।
অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য রিপ্লাই দিতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর মুখে কথা শুরু হতেই বিরোধী আসন কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়। ঘটনায় ক্ষুব্ধ মন্ত্রী বলেন, “এটা রোজ রোজ হচ্ছে। ওনারা যা ইচ্ছে বলেন, আর আমাদের কথা শোনার আগেই বেরিয়ে যান। এটা আর চলতে পারে না।”
এমন পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার রুলস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “যাঁরা আলোচনার মাঝপথে এভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে বেরিয়ে যান, তাঁদের বক্তব্য কার্যবিবরণীতে থাকবে না।”
স্পিকার জানান, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রয়োজনে বিজেপির বক্তব্য সম্পূর্ণ এক্সপাঞ্জ (বাতিল) করে দেব।” এ সময় ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে অরূপ বিশ্বাস, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ সরব হন। বলেন, “স্যার, ওঁরা রোজ এটা করছেন। আপনি পুরো বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করে দিন।” এ সময় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানতে চান, “তাহলে কি আমি ওঁদের বলা কথার উত্তর দেব? নাকি শুধু আমার বক্তব্য রাখব?”
জবাবে স্পিকারের মন্তব্য, “আমি এক্সপাঞ্জ করে দিলাম। তাই আপনাকে রিপ্লাই দিতে হবে না। আপনি আপনার বক্তব্য রাখুন।” পরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজের বক্তব্য রাখেন। ও বিলটি পাস হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্য কার্যত বাতিল হয়ে গেল বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে। যা বিধানসভার ইতিহাসে বিরল বলেই মনে করছেন অনেকেই। স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।