মৃত কিশোরের মা বাবা জানান,মাস চারেক আগে একবার দশ টাকার কয়েক গিলে নিয়েছিল। তখন যমে মানুষে টানাটানি করে ছেলেকে বাঁচানো হয়।

শেষ আপডেট: 13 January 2026 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: মাস চারেক আগে গলায় কয়েন আটকে গিয়েছিল। একদম মৃত্যু মুখ থেকে ফিরে এসেছিল ১৩ বছরের ছেলে। সেই কিশোরের অস্বাভাবিক মৃত্যু হল সোমবার। শোকে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নাবালকের পরিবার।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চন্দননগর ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁটাপুকুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন মনোজ মুদি।তার দুই ছেলে মেয়ে। মনোজ ধনিয়াখালির একটি রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজ করেন। তার স্ত্রী সুমন সাউ ও শাশুড়ি পুতুল সাউ চন্দননগর মহকুমা শাসকের দফতরে সামনে কচুরির দোকান চালান।
সোমবার দুপুরে মা মেয়ে দুজনেই দোকানে ছিলেন। স্কুল ছুটি থাকায় সুমনের ছেলে দামোদর (১৩) তার বোন সোহানিকে(১০) কে নিয়ে বাড়িতে ছিল। দুপুরে খাওয়ার পর মাসির সঙ্গে দুজনে শুয়ে পরে। ঘুম থেকে উঠে দামোদরকে ঘরে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মাসি সোনিয়া সাউ। পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত ঘরে তার ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক জানিয়ে দেন মৃত্যু হয়েছে ওই কিশোরের। ময়নাতদন্ত করতে হবে। অভিযোগ, এই কথা শুনেই মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি চলে যায় কিশোরের পরিবার।
হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে চন্দননগর থানার পুলিশ পৌঁছে যায় কাঁটাপুকুরে। চুঁচুড়া থানা থেকেও পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছয়। মৃতদেহ নিয়ে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে যেতে বলে পুলিশ। সেখানেই কাল ময়নাতদন্ত হবে।
মৃত কিশোরের মা বাবা জানান,মাস চারেক আগে একবার দশ টাকার কয়েক গিলে নিয়েছিল। তখন যমে মানুষে টানাটানি করে ছেলেকে বাঁচানো হয়। রবিবার রাতে ঘুমাচ্ছিল না ছেলে, মা সেই কথা বাবাকে জানান। মনোজ ছেলেকে বকাবকি করে ঘুমিয়ে পড়তে বলে।
সোমবার সকাল থেকে সব স্বাভাবিক ছিল। মা দিদিমা দোকানে চলে যান। সেখানেই দুপুরের পর দুঃসংবাদ পান। সুমন বলেন, "ছেলেটা ছোটো থেকেই চঞ্চল ছিল। বকাবকি করলে ওই ভাঙা ঘরে গিয়ে লুকিয়ে পড়ত। খালি বলত আমি পালিয়ে যাব।" কিন্তু সে যে সত্যিই এভাবে পালিয়ে যাবে ভাবতে পারেনি তার বাবা-মা।