নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বাংলার দুই নার্স, স্বাস্থ্য মহলে বাড়ছে উদ্বেগ। কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হবেন এবং কেন নিপা এতটা বিপজ্জনক, জানুন বিস্তারিত।

নিপা ভাইরাস
শেষ আপডেট: 13 January 2026 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) আতঙ্ক বাংলায়। সোমবার দু’টি সন্দেহজনক নিপা সংক্রমণের (Suspected Nipah Cases) হদিস মিলেছে। আইসিএমআরের (ICMR) ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি (Virus Research and Diagnostic Laboratory) এইমস কল্যাণীতে (AIIMS Kalyani) পরীক্ষার পরই বিষয়টি সামনে আসে। খবর পেয়ে রাজ্য সরকারকে সাহায্য করতে জাতীয় যৌথ আউটব্রেক রেসপন্স টিম (National Joint Outbreak Response Team) মাঠে নেমেছে।
কেন্দ্র (Centre) ইতিমধ্যেই নজরদারি (Surveillance) শুরু করেছে, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং কুইক রেসপন্স টিমকে সক্রিয় করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছেন তাঁরা। নিপা খুব সাধারণ রোগ নয় কিন্তু যখন দেখা দেয়, তখন একে হালকাভাবে নেওয়া যায় না।
নিপার ইতিহাস
নিপা ভাইরাস প্রথম চিহ্নিত হয় ১৯৯৮–৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় (Malaysia)। মূলত শূকর পালকদের (Pig Farmers) মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। ওই প্রাদুর্ভাবে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। তখনই পরিষ্কার হয়ে যায়—নিপা মারাত্মক, মৃত্যুহার বেশি এবং খুব দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
ভারতে নিপার উপস্থিতি বিরল হলেও ভয়ানক। পশ্চিমবঙ্গে ২০০১ এবং ২০০৭ সালে নিপা সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ে। পরে কেরল (Kerala) হয়ে ওঠে সংক্রমণের এপি সেন্টার। ২০১৮ সালে বিরাট আকারে এই ভাইরাস আমাদের দেশে ছড়িয়েছিল সেসময় কড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Containment Measures) নিতে হয়। এরপর কেরলে ছোট ছোট ক্লাস্টার ও বিচ্ছিন্ন সংক্রমণ দেখা গেলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সংখ্যার হিসেবে পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ছবি একটাই, ঘটনা কম, ফল ভয়াবহ।
নিপা ভাইরাস কী?
জুনোটিক সংক্রমণ (Zoonotic Infection)। অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। ফলখেকো বাদুড় (Fruit Bats) এই ভাইরাসের স্বাভাবিক বাহক। বাদুড় নিজেরা অসুস্থ না হলেও, দূষিত খাবার, সংক্রমিত প্রাণী বা আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ভাইরাস ছড়াতে পারে।
নিপার কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা (Antiviral Treatment) নেই। অনুমোদিত ভ্যাকসিনও (Vaccine) নেই। তাই চিকিৎসা মূলত উপসর্গ সামলানো ও শরীরকে সাপোর্ট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই কারণেই আগাম সতর্কতা আর দ্রুত শনাক্তকরণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিপার উপসর্গ
শুরুর দিকে নিপার লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ জ্বর-সর্দির মতোই লাগে। যেমন-
সংক্রমণ বাড়লে দেখা দিতে পারে—
গুরুতর ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যেতে পারে। যারা বেঁচে যান, তাঁদের অনেকের দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক সমস্যা (Neurological Problems) থেকে যেতে পারে।
নিপা থেকে বাঁচতে কী করণীয়
স্বাস্থ্য দফতরের পরামর্শ অনুযায়ী—
বাদুড়ে কামড়ানো বা দূষিত হতে পারে এমন ফল খাবেন না-
বিশ্বজুড়ে নিপার ছবি
ভারতের বাইরে সবচেয়ে বেশি নিপা সংক্রমণ দেখা গেছে বাংলাদেশে (Bangladesh)। ২০০০ সালের শুরুর দিক থেকে প্রায় প্রতি বছরই সেখানে কিছু না কিছু ঘটনা সামনে এসেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দূষিত খাবারের কারণে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (Southeast Asia) কিছু অঞ্চলেও ছিটেফোঁটা সংক্রমণের নজির রয়েছে। বিশ্বজুড়ে মোট সংক্রমণের সংখ্যা কমই থাকে, তবে ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।