কীভাবে ওই দুই নার্স সংক্রমিত হলেন, তাঁরা কাদের কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন - এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 12 January 2026 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ফের নিপা ভাইরাসে (Nipah Virus in West Bengal) আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ল। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দুই নার্স ভর্তি রয়েছেন, যাঁদের শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতির সন্দেহ মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে নবান্ন (Nabanna) ও রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে সতর্ক বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (CS Nandini Chakraborty)।
কীভাবে ওই দুই নার্স সংক্রমিত হলেন, তাঁরা কাদের কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন - এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের একটি বিশেষ দল বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে।
নিপা সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই রাজ্যের তরফে দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে - ০৩৩২৩৩৩০১৮০ এবং ৯৮৭৪৭০৮৮৫৮। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলির জন্যও আলাদা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ সরূপ নিগম জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে নিপা ভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আক্রান্ত বলে সন্দেহভাজনদের মধ্যে এক নার্সের বাড়ি নদিয়ায় এবং অন্যজনের কাটোয়ায়। কল্যাণী এইমসে নমুনা পরীক্ষার পরই তাঁদের নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলেই জানানো হয়েছে।
নিপা ভাইরাসকে বলে জুনটিক ভাইরাস অর্থাৎ পশুর থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। এই ভাইরাসের বাহক ফ্লাইং ফক্স (বৈজ্ঞানিক নাম পিটারোপাস মিডিয়াস) নামে একধরনের ফলভোজী বাদুড়। বাদুড় থেকে কুকুর, বিড়াল, ছাগল, ঘোড়া বা ভেড়ার শরীরে মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত পশুদের দেহের অবশিষ্টাংশ, বা মলমূত্র থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
করোনার থেকেও ভয়ঙ্কর নিপা ভাইরাস (Nipah virus)। কারণ, করোনার চেয়ে নয়া এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ জানিয়েছে, করোনায় মৃত্যুর হার যেখানে ২-৩ শতাংশ ছিল, সেখানে নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে বর্তমানে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ।
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস), আইসিএমআর জানাচ্ছে, নিপা ভাইরাস আক্রান্ত হলে কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, আক্রমণ প্রতিরোধ করার মতো কোনও টিকা এতদিন আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে মৃত্যুর হার বিশ্বে গড়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ। কিন্তু এবার বিশ্ব বাজারে টিকা আনতে চলেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
রোগের লক্ষণ কী কী?
প্রথমে সাধারণ জ্বরই হয় রোগীর। এরপর শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। মাথাব্যথা, বমি শুরু হয়। মাথায় পৌঁছে যায় সংক্রমণের রেশ। শুরু হয় খিঁচুনি। গলা ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকে রোগী। বাড়াবাড়ি সংক্রমণে ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগী কোমা স্টেজে চলে যেতে পারে।
মস্তিষ্কের প্রদাহ শুরু হয়, হৃদপেশিতেও প্রদাহ হয় অনেকের। এনসেফ্যালাইটিস ও মায়োকার্ডিটিসে আক্রান্ত হয় রোগী। আক্রান্ত মানুষকে দ্রুত এমন হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, যেখানে রোগীকে সবার থেকে আলাদা রাখার ও ইনটেনসিভ সাপোর্টিভ কেয়ারের ব্যবস্থা আছে।