Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্লI PAC-Vinesh Chandel: ভোর পর্যন্ত আদালতে শুনানি, ১০ দিনের ইডি হেফাজতে আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ'নিষিদ্ধ' ভারতীয় গানে প্রয়াত আশা ভোঁসলেকে শেষ শ্রদ্ধা! পাক চ্যানেলকে শোকজ, সমালোচনা দেশের ভিতরেই হরমুজ মার্কিন নৌ অবরোধে কোণঠাসা ইরান! তেল রফতানি প্রায় থমকে, দিনে ক্ষতি ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারIPL 2026: আইপিএল অভিষেকে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স! কে এই সাকিব হুসেন? ৪৯ লাখের টিকিট থাকা সত্ত্বেও বোর্ডিং বাতিল! বিমান সংস্থার সিইও-র বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ আদালতেরশ্রমিকদের বিক্ষোভে অশান্ত নয়ডা! পাক-যোগে ষড়যন্ত্র? তদন্তে পুলিশ, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০০ নিজেকে ‘যিশু’ সাজিয়ে পোস্ট! তীব্র বিতর্কের মুখে ছবি মুছলেন ট্রাম্প, সাফাই দিয়ে কী বললেন?IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেই

তামাক বা ধূমপান নয়, সামান্য ভাইরাসেও হতে পারে মুখের ক্যানসার! মাইকেল ডগলাসের কী হয়েছিল?

মাইকেল ডগলাসের (Michael Douglas) ক্যানসারের (Cancer) আসল কারণ প্রকাশ্যে এল। ধূমপান বা অ্যালকোহল নয়, একটি ভাইরাসেই ঘটেছে বিপদ। জানুন বিস্তারিত।

তামাক বা ধূমপান নয়, সামান্য ভাইরাসেও হতে পারে মুখের ক্যানসার! মাইকেল ডগলাসের কী হয়েছিল?

মাইকেল ডগলাস।

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 17 August 2025 15:38

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হলিউডের জনপ্রিয় তারকা মাইকেল ডগলাস। ‘বেসিক ইনস্টিংক্ট’ কিংবা ‘ফ্যাটাল অ্যাট্রাকশন’–এর মতো ছবিতে মনে রাখার মতো অভিনেতা তিনি। তাঁর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া এবং সেরে ওঠার খবর বহু বছর ধরেই আলোচিত। কিন্তু তার চেয়েও বেশি আলোচিত, তাঁর ক্যানসারের আসল কারণটি। 

২০১০ সালে ডগলাস প্রকাশ্যে জানান, স্টেজ ফোর গলার ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন তিনি। প্রথমে বাকি অনেকের মতোই তিনি নিজেও ভেবেছিলেন, বছরের পর বছর ধূমপান, অ্যালকোহল আর জীবনযাত্রার গাফিলতিই তাঁর রোগের মূল কারণ। মানসিক চাপের কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে, তাঁর এই ক্যানসারের নেপথ্যে আসল খলনায়ক অন্য কেউ, এক অদৃশ্য শত্রু, ছোট্ট এক ভাইরাস— হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা HPV।

রোগ ধরা পড়ার গল্প

ডগলাসের অসুখের শুরুটা ছিল বড়ই বিভ্রান্তিকর। গলা ব্যথা, কানে টান, মাঝে মাঝে গিলতে অসুবিধা—এসবকে প্রথমে সাধারণ সংক্রমণ ভেবেই চিকিৎসা চলছিল। পরে মন্ট্রিয়লের এক চিকিৎসক তাঁর গলার ভিতরে গভীরে পরীক্ষা করে জিহ্বার গোড়ায় একটি টিউমার খুঁজে পান। বায়োপসির রিপোর্ট জানান দেয়, এটি স্টেজ ফোর স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (SCC), যা মুখগহ্বরের একটি মারাত্মক ক্যানসার।

HPV: নীরব অথচ প্রবল শক্তিধর ভাইরাস

২০১৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে ডগলাস মন্তব্য করেছিলেন, তাঁর ক্যানসার সম্ভবত HPV–র সংক্রমণের ফল। তিনি নিজের ক্যানসারের কারণ হিসেবে নিশ্চিতভাবে এ কথা ঘোষণা না করলেও, এই ভাইরাসকে ঘিরে যে ঝুঁকি বাড়ছে, সেটাই তুলে ধরেছিলেন।

HPV একটি যৌনবাহিত ভাইরাস, যার ২০০-রও বেশি ধরন রয়েছে। এর অনেকগুলোই নিরীহ এবং নিজে থেকেই সেরে যায়। কিন্তু উচ্চ ঝুঁকির ধরন, বিশেষ করে HPV-16 ও HPV-18, মুখগহ্বর, গলা, জরায়ু এবং যৌনাঙ্গের ক্যানসারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। 

বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে যে ওরোফ্যারিনজিয়াল ক্যানসারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, তার পিছনে বড় ভূমিকা রাখছে HPV। আশ্চর্যের বিষয়, এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এমন মানুষও, যাঁরা ধূমপান বা মদ্যপান করেন না।

স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (SCC) কী?

SCC হলো এক ধরনের ক্যানসার, যা শরীরের উপরিতলের পাতলা, চ্যাপ্টা কোষ থেকে জন্ম নেয়। সাধারণত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে দেখা যায়, তবে ফুসফুস, গলা, জিহ্বা, এমনকি সাইনাস বা জরায়ুতেও হতে পারে।

মূল কারণগুলি হল:

  • দীর্ঘদিন সূর্যালোকে থাকা

  • ফর্সা ত্বক, যেখানে মেলানিন কম

  • বয়স বাড়া, বিশেষ করে ৫০–এর পর

  • পুরুষ লিঙ্গের সংক্রমণ

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া

  • জেনেটিক মিউটেশন

  • ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল

  • পুরনো ক্ষত বা পোড়া দাগ

  • আর্সেনিকের সংস্পর্শ

  • খারাপ মুখগহ্বর স্বাস্থ্য

  • পারিবারিক ইতিহাস

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

এই ক্যানসার থেকে বাঁচতে প্রথমেই দরকার সচেতনতা। সূর্যালোক থেকে সুরক্ষা, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, টুপি বা লম্বা জামা পরা গুরুত্বপূর্ণ। HPV প্রতিরোধে ভ্যাকসিনও অন্যতম বড় অস্ত্র।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট টিউমার অস্ত্রোপচারে সরানো সম্ভব। উন্নত পর্যায়ে প্রয়োজন পড়ে রেডিয়েশন, কেমোথেরাপি বা ফোটোডাইনামিক থেরাপির। 

ডগলাসের ক্ষেত্রেও হয়েছিল তীব্র কেমো ও রেডিয়েশন থেরাপি। লম্বা সময়ের লড়াই শেষে এখন তিনি ক্যানসারমুক্ত, যদিও নিয়মিত চেক-আপ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাইকেল ডগলাসের গল্প যে শিক্ষা দেয়

ডগলাসের জীবনকথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্যানসার মানেই কেবল ধূমপান বা অ্যালকোহল নয়। অনেক সময় অদৃশ্য এক ভাইরাসই বড় বিপদ ডেকে আনে। তাই সময়মতো রোগ শনাক্ত করা, খোলাখুলি আলোচনা আর সচেতনতা তৈরি করাই পারে জীবন বাঁচাতে।


```