পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে বৈধ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসেন রাজীব লস্কর ও জুনায়েদ মিঞা। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল ভারত হয়ে তুরস্কে যাওয়ার। সেই ভিসা সংক্রান্ত কাজের জন্য অচিন্ত্যকুমার পালের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 February 2026 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাসপোর্ট-ভিসা করিয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে অপহরণের (Bangladeshi Nationals Kidnapped) অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল শহরতলিতে। অভিযোগ, তাঁদের আটকে রেখে তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরেও আরও অর্থ দাবি করে অভিযুক্তরা। ঘটনার তদন্তে নেমে দুই বাংলাদেশিকে (Bangladeshi) উদ্ধার করেছে টেকনোসিটি থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে দু’জনকে, যার মধ্যে একজন আবার বাংলাদেশি নাগরিক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে বৈধ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসেন রাজীব লস্কর ও জুনায়েদ মিঞা। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল ভারত হয়ে তুরস্কে (India to Turkey) যাওয়ার। সেই ভিসা সংক্রান্ত কাজের জন্য অচিন্ত্যকুমার পালের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত বাংলাদেশি নাগরিক হুমায়ুন কবীরই রাজীব ও জুনায়েদের সঙ্গে অচিন্ত্যর আলাপ করিয়ে দেন।
এরপর পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার অজুহাতে তাঁদের একটি জায়গায় ডাকা হয়। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছনোর পরই দু’জনকে আটকে রাখা হয়। পরিবারের কাছে যোগাযোগ করে তিন লক্ষ টাকা দাবি করা হয় মুক্তিপণ হিসেবে। অভিযোগ, বাংলাদেশে একটি ব্যাঙ্ক থেকে অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠানোও হয়। কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি দাবি। আরও অর্থ চাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সক্রিয় হয় পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে একটি হোটেলে অভিযান চালায় টেকনোসিটি থানার দল। সেখান থেকেই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগে হুমায়ুন কবীর ও অচিন্ত্য পালের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, অপহরণের নেপথ্যে কেবল অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্য ছিল, নাকি অন্য কোনও লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ জড়িত। দুই বাংলাদেশির সঙ্গে ধৃত হুমায়ুন কবীরের সম্পর্কও যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে।
আজ ধৃত দু’জনকে বারাসাত আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে সীমান্তপারের ভিসা দালাল চক্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।