বাংলাদেশে (Bangladesh) রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে শুরু করলে গত বছর আলাদাভাবে কলকাতায় পালিয়ে আসেন তাঁরা। শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে মেডিক্যাল ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 February 2026 09:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে রাজনৈতিক অশান্তির জেরে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতায় (Kolkata) এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৬ জন বাংলাদেশি যুবক। মেডিক্যাল ভিসায় (Medical Visa) ভারতে ঢুকলেও, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা দেশে ফেরেননি। বরং পার্ক স্ট্রিট ও কলিন স্ট্রিটের বিভিন্ন হোটেলে লুকিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিয়মিত নথিপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে তাঁদের উপর সন্দেহ হয় পুলিশের। হোটেল চেকিংয়ের সময়ই ধরা পড়ে যান ওই ৬ বাংলাদেশি নাগরিক (6 Bangladeshi arrested)।
কলকাতার পার্ক স্ট্রিট (Kolkata Park Street) থানার পুলিশ কর্মকর্তারা বিদেশি বোর্ডারদের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, ছ’জনেরই ভিসার মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে। এই তথ্য মিলতেই দ্রুত কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃত ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের একজন গায়কও। নাম- আজম মোল্লা। গ্রেফতারির পর তিনি নিজের গিটার ছাড়তেও চাননি, এমনকি পুলিশকে গান গাওয়ার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধও করেন।
ধৃত ৬ জনের নাম, আবির হোসেন, মহম্মদ মামুন রশিদ, মহম্মদ আলিমুন গাজি, আজম মোল্লা, ফয়জল আমিন এবং জায়দুল ইসলাম। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই বৈধ বাংলাদেশের পাসপোর্ট (Bangladesh Passport) উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, সবাই আওয়ামি লিগের সদস্য। বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে, বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালি ও টাঙ্গাইল জেলায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে (Bangladesh) রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে শুরু করলে গত বছর আলাদাভাবে কলকাতায় পালিয়ে আসেন তাঁরা। শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে মেডিক্যাল ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন। পরে কলকাতায় এসে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে হোটেল বদলে বদলে থাকতে শুরু করেন। কয়েকজন স্থানীয়ভাবে কাজের খোঁজও করছিলেন। গায়ক আজম মোল্লা পরিচিতদের ঘরে ঘরে গান গেয়ে রোজগারের চেষ্টা করছিলেন।
চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যেই প্রত্যেকের ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু দেশে ফেরার বদলে তাঁরা কলকাতা থেকে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে চাকরি করার পরিকল্পনা করছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা কলিন স্ট্রিটের হোটেলটিতে ওঠেন এবং সেখান থেকেই গ্রেফতার (Arrest) হন।
রবিবার রাতে গ্রেফতারির পর সোমবার তাঁদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। ধৃতরা পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, তাঁরা কোনও অবস্থাতেই বাংলাদেশে ফিরতে চান না। তবে সাজার মেয়াদ শেষে নিয়ম মেনেই তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।